স্থানীয় সংবাদ

খুবিতে ছাত্রের হামলায় শিক্ষক আহত উত্তপ্ত ক্যাম্পাস অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা : তদন্ত কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মধ্যরাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে খুলনা বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মিছিল সহকারে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে দোষী ছাত্রের বিচার দাবি করেন। শনিবার সিন্ডিকেটের জরুরী সভায় অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খুবির ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. নাজমুস সাদাত শুভ আমার জানান, শুক্রবার রাতে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য এশার নামাজ শেষে তার বাস ভবনে ফেরার সময় দেখেন ১০/১৫ জন ছাত্র গাছে উঠে আম পাড়ছে। তারা বড় দুই বস্তা ভর্তি আম সংগ্রহ করে। খবর পেয়ে অন্যান্য শিক্ষক কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হন এবং তাদেরকে এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন। হঠাৎ করে বাংলা বিভাগের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ নোমান সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালক হাসান মাহমুদ সাকির মাথায় ধাতব কোন বস্ত দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। সাথে সাথে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। সে সময় ওই ছাত্ররা পালিয়ে যায়। আহত শিক্ষককে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়। এদিকে সংবাদ পেয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের সকলহল থেকে ছাত্ররা বেরিয়ে এসে মিছিল শুরু করে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিচার দাবি করে ভিসির বাংলোর সামনে অবস্থান নেয়। শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান থেকে সরবেনা বলে জানায়। একই সাথে ওই শিক্ষার্থীকে সাধারণ ছাত্রদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। রাত আড়াইটা পর্যন্ত ছাত্ররা বিক্ষোভ করেছে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শনিবার বিকেল ৩টায় জরুরী সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ভিসি প্রফেসর ড. রেজাউল করিম। এসময় প্রোভিসি প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ খানসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, ২৩১ তম জরুরী সিন্ডিকেট সভায় ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ওই ছাত্রের ছাত্রত্ব সাময়িক স্থগিত ও ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তার ¯œাতক সম্মান কোর্সের সনদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিকটস্থ হরিণটানা থানায় ফৌজদারি আইনে আজই মামলা করা হবে, যেহেতু দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শিক্ষককে আঘাত করেছে। বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্টার বাদী হয়ে মামলা করবেন।
এছাড়া ঘটনার তদন্তে তিন সদসস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান হলেন প্রফেসর ড. মো: ইমদাদুল হক। দুইজন সদস্য হলেন প্রফেসর ড. মো: খসরুল আলম ও প্রফেসর ড, মো: আজমল হুদা। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button