স্থানীয় সংবাদ

মশার ওষুধ নতুন অ্যাডাল্টি সাইড মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

৯৭ ভাগ মশা মারা গেছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ মান যাচাইয়ের প্রাথমিক পরীক্ষায় ফেল করা সেই মশার ওষুধ ফেরত নিতে ঠিকাদার এম আর এন্টারপ্রাইজকে নির্দেশ দিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। একই সঙ্গে ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে এ তথ্য জানান।
নতুন অ্যাডাল্টি সাইড পরীক্ষা : এদিকে উড়ন্ত মশা নিধনে ব্যবহারের জন্য নতুন ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে কেসিসি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নগরের কেসিসির গ্যারেজে কীটতত্ত্ববিদ, কীটনাশকবিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও নাগরিক নেতাদের উপস্থিতিতে এ পরীক্ষা করা হয়। বুধবার এর ফলাফল প্রকাশ করে কেসিসি। সে অনুযায়ী বিকেলে নগরভবনের মেয়র দপ্তরের সামনে ওষুধ প্রয়োগকৃত মশা গণনা করা হয়। গণনা করে ৯৭% মশা মারা গেছে বলে ওষুধ পরীক্ষা নিরিক্ষা কমিটির সদস্য ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান। সদস্যদের উপস্থিতিতে এ মরা মশ গণনা করা হয়। সুতরাং এ মশার ওষুধই মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এখন এই ওষুুধের স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য রোগতত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো জানায়।
এদিকে নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়াকর্স লিমিটেড থেকে নতুন মশার ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেসিসি। মঙ্গলবার বিকেলে কেসিসির পরিচালনা কমিটির সভায় ডিপিএম পদ্ধতিতে এই ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। নতুন এই ওষুধের প্রতি লিটারের দাম পড়ছে ৪ হাজার ৪০০ টাকা। বর্তমানে কেসিসি যে লার্ভিসাইড ব্যবহার করছে তার প্রতি লিটার দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ওষুধের মজুদ শেষ হয়ে আসায় আপাতত এক হাজার লিটার ওষুধ দ্রুত কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গ্রহণের আগে এই ওষুধও পরীক্ষা করা হবে। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রায় ৫৬ লাখ টাকা মূল্যের দু’ হাজার লিটার লার্ভিসাইড কেসিসিকে সরবরাহ করে এম আর এন্টারপ্রাইজ। গত ১২ সেপ্টেম্বর কীটতত্ত্ববিদদের উপস্থিতিতে ওই ওষুধের মাঠ পরীক্ষা চালায় কেসিসি। ওষুধ প্রয়োগের ৪৮ ঘণ্টায় ১২ শতাংশ লার্ভাও মরেনি। এক মাস পর মঙ্গলবার সেই কার্যাদেশ বাতিল করা হলো। কেসিসির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর মশক নিধন ওষুধের মধ্য থেকে কেসিসির অনুমোদিত কমিটি রেনডম স্যাম্পল সংগ্রহ করে ওষুধের গুণগত মান পরীক্ষায় লার্ভার মৃত্যুর হার ১২ শতাংশ পাওয়া যায়। যা সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচিত হয়। এ অবস্থায় গত ৬ সেপ্টেম্বর কার্যাদেশ বাতিলসহ ওষধ ফেরত গ্রহণের জন্য বলা হলো। এ ব্যাপারে এম আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ড. মো. মাহবুবুর রহমান গাজী বলেন, দরপত্রের শর্তে এটি ছিল না। কেসিসির ওষুধ পরীক্ষার পদ্ধতি সঠিক ছিল না। নতুন করে পরীক্ষার জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম। এনিয়ে আলোচনা চলছিল। এখন হঠাৎ করে কার্যাদেশ বাতিল করায় আমাদের আইনের আশ্রয় নিতে হবে।
জানতে চাইলে কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, দরপত্রের অন্যতম শর্ত ছিল মাঠ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ওষুধের রাসায়নিক পরীক্ষা করা হবে। কিন্তু প্রাথমিক পরীক্ষায় তারা ফেল করেছে। গত কয়েক দশক ধরে প্রতিবছর একাধিকবার এভাবেই মশার ওষুধ পরীক্ষা হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর কীটতত্ত্ববিদ ও রাসায়নিক বিশেষজ্ঞদের সামনেই নির্ধারিত নিয়ম মেনে ওষুধ পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলাফল সবাই দেখেছে এবং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আগের ঠিকাদারের পক্ষে অনেকে তদবির করেছে, কিন্তু ভেজাল ওষুধ গ্রহণের সুযোগ নেই। মানুষের জীবন নিয়ে আমরা ছেলে খেলা করতে পারি না। তিনি বলেন, ওষুধের মজুদ শেষ দেখে দ্রুত ওষুধ কেনার জন্য বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তারাও এই ওষুধ ব্যবহার করছে। দামের বিষয়টি নিয়ে আবারও বৈঠক করবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button