স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় উপজেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে ফসলি জমি দখলের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার দাকোপে থানা বিএনপির আহবায়ক অসিত বরণ সাহা, সদস্য সচিব মান্নান খান, থানা পৌর বিএনপির সদস্য আহবায়ক মোজাফ্ফর শেখ এবং সদস্য সচিব আলামিন সানার বিরুদ্ধে বসতভিটা ও ফসলী জমি জবর দখল এবং আধাপাকা ধানের মধ্যে বালি ভরাটের অভিযোগে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল শনিবার খুলনা প্রেসক্লাবে দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনার দাকোপে পানখালী ১নং ওয়ার্ডের খলিশা গ্রামের হিরন্ময় রায় লিখিত বক্তব্যে বলেন, দাকোপ থানার অন্তর্গত পানখালী ১নং ওয়ার্ডেও খালিশা গ্রামে পৈত্রিক ওয়ারেশ সূত্রে প্রাপ্ত জমি জমায় শতবর্ষ ধরে ভোগদখল ও বসবাস করে আসছি। পানখালী খলিশা গ্রামের এ্যাভেনগার্ড শিপইয়ার্ড লিমিটেড কোম্পানী নামীয় একটি কোম্পানী শিপইয়ার্ড নির্মাণের জন্য জমি ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু এলাকাবাসী বসতভিটা ও ফসলী জমিতে কোম্পানি না করা ও জমি বিক্রয় না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তৎকালীণ আওয়ামী লীগের দু:শাসনের সময়ে স্থাণীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অত্র কোম্পানী যোগসাজোসে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতির মাধ্যমে কয়েকজন জমির মালিককে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করে এবং অন্য জমির মালিকরা জমি বিক্রয় করার জন্য হুমকি দিকে থাকে। অত:পর গত স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর উক্ত কোম্পানীর পক্ষে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে দাকোপ থানার বিএনপির আহবায়ক অসিত বরণ সাহা, সদস্য সচিব মান্নান খান, দাকোর থানা পৌর বিএনপির আহবায়ক মোজাফ্ফর শেখ এবং সদস্য সচিব আলামিন সানা যারা অদ্যবধি কোম্পানীর কাছে কোন জমি বিক্রয় করেননি, তাদেরকে কোম্পানীর কাছে জমি বিক্রয় করার জন্য হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। এক পর্যায়ে গত ২০ নভেম্বর’২৪ অত্র কোম্পানীর পক্ষে উল্লিখিত দাকোপ থানা বিএনপির নেতাকর্র্মীরা ৪-৫ শতাধিক লোক নিয়ে এলাকাবাসীর বসতভিটা ও ফসলী জমি জবর দখল করে এবং আধা পাকা ধানের মধ্যে বালি ভরাট করে। অপরিপক্ক ধানের জমিতে বালু ভরাট ও জমি দখলের সময়ে আমরা সেনাবাহিনীর দ্বারস্থ হই। সেখানে কোন প্রতিকার পাই নাই। এমনকি আমরা দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও খুলনা জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়েছি, কিন্তু সেখানেও কোন প্রতিকার পাই নাই। আমরা আমাদের উপার্জন ও জীবিকার একমাত্র মাধ্যম জমির ধান্য ফসল রক্ষা করতে পারি নাই। যে কারণে আমাদের সারা বছর অনাহারে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করতে হবে। আমরা জমির মালিকগণ বাধা প্রদান করতে গেলে অত্র বিএনপির নেতাসহ অন্যান্যরা জমির মালিকদের জমিতে প্রবেশ করতে বাধা প্রদানসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে। জমি কোম্পানীকে লিখে না দিলে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ নভেম্বর’২৪ এ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পক্ষে যে মামলা হয় সেই মামলায় অত্র জমির মালিক মুকুল চন্দ্র রায়, অনিমল রায়, কৃষ্ণপদ রায়, চিন্ময় রায় এদের নাম যোগ-সাজসে অন্তর্ভুক্ত করেন। তারা কখনোই আওয়ামী লীগের কোন পদ-পদবীতে যুক্ত ছিলেন না। এদের ৪ জনের মধ্যে কৃষ্ণপদ রায় হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। ২ সন্তান রেখে তার স্ত্রী মারা যান। তাকে কেসের আসামী বানিয়ে ভিটা ছাড়া করে। ফলে তার ২ সন্তান অনাথের মতো মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। উপার্জনের অন্য কোন মাধ্যম না থাকায় তারা জমির ফসলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেই জমিকে আজ ফসলের পরিবর্তে বালু। বর্তমানে বিএনপি দাকোপ থানায় অত্র নেতাকর্মীরা জমির মালিকদের বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে হুমকি প্রদান করায় অত্র এলাকার জমির মালিকসহ জনসাধারণ পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় বসাবস করছে। তারা বিভিন্নভাবে হয়রানি করা সহ বলে জমি না দিলে প্রান দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অত্র বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button