দাকোপে বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় জোর করে ফসলি জমি ভরাট করে শিপইয়ার্ড নির্মাণ করা হচ্ছে

# সংবাদ সম্মেলনে ৬ পরিবারের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলায় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে জমি দখল ও ফসলী জমিতে বালু ভরাট করে অ্যাভেনগার্ড শিপইয়ার্ড লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শিপইয়ার্ড নির্মাণ করছে। আওয়ামী লীগের আমলে সংখ্যালঘু কয়েকজন জমির মালিককে হুমকি-ধামকি দিয়ে ঐ কোম্পানির কাছে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। এখন স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের দিয়ে ভয়ভীতির মাধ্যমে অবৈধভারে আরো ১২ বিঘা ফসলী জমি দখল করে সেখানে বালু ভরাট করা হচ্ছে। সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ এলাকায় ভারি শিল্প-কলকারখানা স্থাপন বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অ্যাভেনগার্ড শিপইয়ার্ড লিমিটেড কোম্পানি অবৈধভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংখ্যালঘু ৬ জন জমির মালিক শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হিরন্ময় সানা বলেন, দাকোপ উপজেলার পানখালী ১নম্বর ওয়ার্ডের খলিশা গ্রামে পৈত্রিক ওয়ারেশ সূত্রে প্রাপ্ত জমি বংশ পরমপরায় শান্তিপূর্ণভাবে তারা ভোগদখল ও বসবাস করে আসছে। এ অবস্থায় দাকোপের পানখালী ইউনিয়নের খলিশা গ্রামে অ্যাভেনগার্ড শিপইয়ার্ড লিমিটেড কোম্পানি নামে একটি কোম্পানি শিপইয়ার্ড নির্মাণের জন্য জমি কেনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তখন এলাকাবাসী জমি বিক্রি না করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ঐ দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঐ কোম্পানির মালিক পক্ষ যোগসাজস করে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতির মাধ্যমে কয়েকজন জমির মালিককে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করে। এছাড়া অন্য জমির মালিকদেরও জমি বিক্রি করার জন্য হুমকি দিতে থাকে। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জমি দখলের প্রক্রিয়া থেমে যায়। তবে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে সম্প্রতি উক্ত কোম্পানির পক্ষে দাকোপ থানা বিএনপির আহবায়ক অসিতবরণ সাহা, সদস্য সচিব মান্নান খান, দাকোপ পৌর বিএনপির আহবায়ক মোজাফফর শেখ ও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আলামিন সানাসহ অন্যান্যরা নীরিহ জমির মালিকদেরকে ঐ কোম্পানির কাছে জমি বিক্রি করার জন্য হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। অবৈধভাবে ভরাট করা জমির মধ্যে ঐ এলাকার সংখ্যালঘু প্রবীণ মুকুল চন্দ্র রায়, পরিমল কান্তি রায় (অনিমল), কৃষ্ণপদ রায়, বিশ্বজিৎ রায়, অমিতাভ সানা ও পরিতোষ ঢালীর ১২ বিঘা পৈত্রিক বসত ভিটা ও ধানি জমি রয়েছে। গত বছরের ২০ নভেম্বর ঐ কোম্পানিটির পক্ষে উল্লিখিত দাকোপ থানা বিএনপি নেতাকর্মীরা ৪-৫ শতাধিক লোক নিয়ে এলাকাবাসীর বসতভিটা ও ফসলী জমি জবর দখল করে এবং আধা-পাঁকা ধানের মধ্যে বালি ভরাট করে। এখনো তাদের হুমকি-ধমকি অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়- অপরিপক্ক ধানের জমিতে বালু ভরাট ও জমি দখলের সময় তারা সেনাবাহিনীর দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পায়নি। তারা (সেনাবাহিনী) আমাদের বলেন, থানায় যোগাযোগ করতে। আমরা দাকোপ খানার ওসি বরাবর গিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। এছাড়াও দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও খুলনার জেলা প্রশাসকের কাছে গেলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তারা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আমরা আমাদের উপার্জন ও জীবিকার একমাত্র মাধ্যম জমির ধান রক্ষা করতে পারিনি। যে কারণে আমাদের সারাবছর অর্ধাহারে -অনাহারে, পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকরা আরো বলেন, নির্মাণাধীন ঐ শিপইয়ার্ড কোম্পানিতে বালু ভরাট কাজ শুরু করলে প্রতিবাদ করা হয়। ফলে তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাড়া করে আমাদেরকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। জমি কোম্পানিকে লিখে না দিলে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রামছাড়া করার হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্ট পরবর্তী গত বছরের ২৯ নভেম্বর পতিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামে যে মামলা হয়, সেই মামলায় জমির মালিক-মুকুলচন্দ্র রায়, অনিমল রায়, কৃষ্ণপদ রায়, চিন্ময় রায়কে মামলায় অর্ন্তভুক্ত করে আসামি করা হয়। অথচ তারা কখনোই আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবীতে যুক্ত ছিলেন না। তাদের মধ্যে হতদরিদ্র কৃষ্ণপদ রায়ের স্ত্রী দুই সন্তান রেখে মারা গেছেন। তাকেও মামলার আসামি বানিয়ে ভিটা ছাড়া করা হয়েছে। কৃষ্ণপদ রায়ের সন্তানরা বর্তমানে অনাথের মতো অন্য মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে, সংখ্যালঘু কৃষকদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে বেসরকারি অ্যাভেনগার্ড শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ম্যানেজার কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাদের অভিযোগ সঠিক নয়। তারা যদি জমির সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারে তাহলে আমরা জমি ছেড়ে দেব। তাছাড়া জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এব্যাপারে খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



