স্থানীয় সংবাদ

খালিশপুরের সেই কৃষকদলের নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি

# কলেজ ছাত্রীকে চাকুরি দেয়ার কথা বলে টাকা আতœসাত #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খালিশপুরের সেই কৃষকদলের নেতা মোজাম্মেলকে কারণ দর্শানো নোটিশের পর এবার দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল মহানগর কৃষকদলের আহবায়ক মোঃ আক্তারুজ্জামান ও সদস্য সচিব শেখ আদনান ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশে এ আদেশ দেয়া হয়। ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, “আপনার প্রেরিত কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ার কারণে খালিশপুর থানা কৃষকদলের আহবায়কের পদ থেকে সাময়ীক অব্যাহতি দেয়া হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে।” এর আগে গত ১০ এপ্রিল তাকে শোকজ নোটিশ দেন মহানগর কৃষকদল। ওই শোকজে উল্লেখ করা হয়, “আপনার (মোজাম্মেল হোসেন খালিশপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক) বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও অসৌজন্য মূলক আচরণের অভিযোগ বারবার পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতা কর্মীরা আপনার সাথে কাজ করতে অনিহা প্রকাশ করছে। এছাড়া আপনার বিরুদ্ধে মানুষকে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার একাধিকবার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আপনার কর্মকান্ডে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এমতাবস্থায় আপনাকে আপনার কর্মকান্ডের জন্য শোকজ নোটিশ প্রদান করা হলো। উল্লেখ্য, দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনীমহল এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের স্ত্রী রেনু বেগম। খালিশপুর আলমনগর আশরাফিয়া মসজিদের পাশের বাসিন্দা ও খালিশপুর থানা কৃষকদলের আহবায়ক শেখ মোজাম্মেল হোসেনের নিকট তার মেয়ের চাকুরির জন্য যান। তিনি তার মেয়েকে নৌবাহিনী স্কুল এ্যান্ড কলেজ এ অফিস সহকারী পদে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। সে মতে রেনু বেগম নিরুপায় হয়ে ধার কর্জ করে মোজাম্মেলকে গত ৯ সেপ্টেম্বর’২৩ স্বাক্ষীগনের উপস্থিতিতে নিজ মোবাইলে ভিডিও করে বিবাদীর চাহিদা মতে তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বিবাদীকে টাকা প্রদানের পর থেকে এ পর্যন্ত রেনুর মেয়েকে কোন চাকুরী দেয়নি। বিবাদী তাকে বারবার দিন-তারিখ দিয়ে ঘোরাতে থাকে ও ফিরিয়ে দেয়। গত ১৬ মার্চ সকাল ১০টায় বিবাদীর বসবাসরত নিজ বাড়িতে, হোল্ডিং- ২৬/৪, ভালুয়ার বিল, আলমনগর আশরাফিয়া মসজিদ গলি খালিশপুরে গিয়ে দেখা করে এবং তার মেয়েকে চাকুরি দিতে বলেন। তা না হলে তার টাকা ফেরৎ দিতে অনুরোধ করতেই বিবাদী তার উপর উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ ও তাকে মারধর করে। এ সংক্রান্তে খালিশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু প্রতারক মোজাম্মেল হোসেন বিএনপির দলীয় নেতাকর্মিদের থানায় নিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট দেয়ার জন্য পুলিশকে চাপ প্রয়োগ করছে । এই প্রতারক মোজাম্মেল হোসেনের বিরুদ্ধে খালিশপুর এলাকায় দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারন মানুষকে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়ার অভিযোগ রয়েছে। তারপর ভিকটিম বিষয়টি নিয়ে মহানগর কৃষকদলের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তারই প্রেক্ষিতে দল তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কৃষকদল নেতা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “আমি ধার হিসেবে রেনু বেগমের নিকট থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছি। আগামী মাসে (মে মাস) দিয়ে দিব। এখানে চাকুরি দেয়ার নামে টাকা নেয়ার ঘটনায় দল আমাকে কিছু করেনি। একটি মহল আমাকে ষড়যন্ত্র করে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button