খুলনাসহ ৮ জেলার ভোক্তা অধিকারের কঠোর অভিযানে ১৩ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৪৫ হাজার জরিমানা

# জনস্বার্থে অভিযান চলমান রাখার আশ^াস সংশ্লিষ্টদের #
স্টাফ রিপোর্টার : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয় সমূহ খুলনার নিত্যপণ্যের বাজার ভোক্তাদের নিয়ন্ত্রনে রাখাসহ নিয়মবর্হিভূত কেনাবেচা ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত বাজার তদারকিসহ অভিযান অব্যহত রয়েছে। ওই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৭ এপ্রিল) ভোক্তা অধিকারের ৮ টি টিম তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এসময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসমূহের বাজার দর ও ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়। তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি মূল্য নিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযান কালে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকি ও জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল-মদিনা ফার্মেসীকে যথাযথ ঔষধ সরবরাহ না করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে মেজবান রেস্টুরেন্টকে ৫ হাজার টাকা ও নিউ সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারিকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর জিরো পয়েন্ট ও মোস্তফার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে মনসুর হোটেলকে ২ হাজার টাকা ও আসলাম হোটেলকে ২ হাজার টাকা, মেসার্স মুইন মেডিকেল হলকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা ও মেসার্স মোল্লা মেডিকেল হলকে যথাযথ পন্য সরবরাহ না করার অপরাধে ১ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে সদর উপজেলার দরিয়ারপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স আফ্রিদি ট্রেডার্সকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে শাখিলা উপজেলার সিংড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স ভাই ভাই বেকারিকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করা ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে ৩০ হাজার টাকা টাকা জরিমানা করা হয়।
কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলীর নেতৃত্বে কুমারখালি উপজেলার আলাউদ্দিননগর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স সততা মিষ্টান্ন ও দধি ভান্ডারকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে সদর উপজেলার মুনজিৎপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিউ সাতক্ষীরা আইসবারকে নকল পণ্য প্রস্তুত করার অপরাধে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে শৈলকূপা উপজেলার কবি হাটফাজিলপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্রীকৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভান্ডারকে পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা ও লিপি ফার্মেসিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ২০ জরিমানা আরোপ করা হয়। অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদেরকে সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার নির্দেশনা দেয়া হয়। অভিযানে ১৩ টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত রাখার আশ^াস সংশ্লিস্টদের।
এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, খুলনার বাজারে আমাদের নিয়মিত তদারকিসহ অভিযান অব্যহত আছে। ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত করলে ওই ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসাবে জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হচ্ছে। খুলনার বাজার সমূহে কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান সরকার প্রদত্ত নিয়মনীতির বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। জনস্বার্থে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।



