দৌলতপুরে পুরাতন সাতক্ষীরা সড়কটি খানাখন্দে বেহাল

# ছোট-বড় খানাখন্দে বাড়ছে দূর্ঘটনার ঝুঁকি, ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে যানবাহন #
# জরুরী ফায়ার সার্ভিসের পরিসেবা ও রোগী নিয়ে এ্যাম্পুলেন্সসহ পথচারী চলাচলে দূর্ভোগ #
# বর্ষার আগেই সংস্কারের দাবি #
মোঃ আশিকুর রহমান ঃ খুলনা নগরীর দৌলতপুর মুহসীন মোড়স্থ গুরুত্বপূর্ণ পুরাতন সাতক্ষীরা সড়কটি দীর্ঘদিন বেহাল দশায় পড়ে আছে। খুলনা সিটি বাইপাস সড়কের সাথে সরাসরি মিলিত হওয়াই, এই সড়কের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। বেহাল সড়কটি ধরে প্রতিদিনই অসংখ্যক ভারীসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে থাকে। এছাড়া শাহপুর, আড়ংঘাটা, গাইকুড়সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের শহরে আসার গুরুত্বপূর্ন সড়কও এটি। একই সাথে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স’র ২৪ ঘন্টা জুড়ে জরুরী নাগরিক পরিসেবা দিতে স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্থ হচ্ছে ওই বেহাল সড়কের কারণে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনা (এলজিআরডি)’র অধিভুক্ত এই সড়কটি দীর্ঘদিন খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্তে বেহাল দশায় পড়ে থাকলেও যেন দেখা কেউ নেই। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন সড়ক নির্মান বা সংস্কার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর নেই এই গুরুত্বপূর্ন সড়কটিতে সংস্কারে। যে কারণে সংস্কারের অভাবে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকার ছুটে কর্মব্যস্ত মানুষ, স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের। এছাড়া সামনে বর্ষাকাল আসছে, তখন আরো দুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এমতাবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন দূর্ভোগে পড়া স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, দৌলতপুর উপশহরের কিছু গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা বিশেষ করে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খুলনা অঞ্চল), কৃষি প্রশিক্ষন ইনষ্টিটিউট, সরকারি মুহসীন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়সহ অনেক স্থাপনা এই সড়ক সংলগ্নে। এছাড়া সিটি বাইপাস সড়কের সরাসরি মিলিত হওয়ায় কারণে এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিনই অসংখ্যক ছোট, বড়, মাঝারী ও ভারী যানবহন চলাচল করে। অপরদিকে জরুরী পরিসেবা দেওয়া ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স নাগরিক সেবা দিতে গিযে চলাচলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে ওই বেহাল সড়কের কারণে। উঁচু নিঁচু গর্ত, খানাখন্দে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়না। যার ভোগান্তি পেতে হচ্ছে সড়ক ধরে ছুটে চলা কর্মব্যস্ত মানুষ, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, পথচারীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষপ কামনা করেছেন।
ওই এলাকার বাসিন্দা ও ইট-বালু ব্যবসায়ী রাশিকুর আনাম রাশু জানান, এই সড়কটি আমাদের এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটা সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি উচু-নিচু গর্তে খানাখন্দে বেহাল দশায় পড়ে আছে। এই সড়ক ধরে খুলনা সিটি বাইপাস সড়ক হয়ে প্রতিদিন অসংখ্যক যানবাহন বিভিন্ন জেলা শহরে ছুটে যায়। বিশেষ করে মুমুর্ষ রোগী নিয়ে এই সড়কে চলাচল করাটা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দুঃখের বিষয় দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কটি ভাঙ্গা, সংশ্লিষ্টদের মেরামত করার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। সামনে বর্ষাকাল, সড়কটি যদি এখনি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন না করা হয়, তবে সামনে আরো দুর্ভোগ বাড়বে। স্কুল শিক্ষার্থী তাসনিমুর রহমান আরিক জানান, এই সড়ক ধরে প্রতিদিন স্কুলে ও ব্যাচে পড়তে যায়। ভাঙ্গা রাস্তার কারণে স্কুলে যাওয়ার সময় ইজিবাইক বা ভ্যানে করে বসে ঝাঁকি খেতে খেতে জীবন বের হয়ে যায়। অনেক সময় ভাঙা ইটের উপর পরে ইজিবাইক ওঠে একদিকে কাত হয়ে পড়ে, খুব ভয় লাগে তখন। এ রাস্তাটি কি ঠিক হবে না?।
পথচারী রিফাত আহম্মেদ পিয়াল জানান, এই সড়কটি শহরে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি সড়ক। এছাড়া সরাসরি বাইপাস সড়কের সাথে মিলিত হওয়াই আরো গুরুত্ব বেড়েছে। সড়টি দিয়ে প্রতিদিনই অসংখ্যক পণ্যবাহী যানবাহনসহ যাত্রীবহক কারী যানবাহন চলাচল করে। তবে দুঃখজনক বিষয় দীর্ঘদিন উচু-নিচু গর্ত আর খানাখন্দের কারণে লাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক ভাবে চলাচলের জন্য, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি মেরামত করা জরুরী বলে আমি মনে করি।
ইজিবাইক চালক রনি জানান, ইজিবাইক চালিয়ে জীবন-জীবিকা চালায়। পুরাতন সাতক্ষীরা রোডে যাত্রী টানি। সড়কটি এতো পরিমানে ভাঙা, গাড়ী চলাতে খুব কষ্ট হয়। এছাড়া মাঝে মাঝে গর্তে ভেতর চাকা পড়ে গাড়ী উল্টে যাওয়ার অবস্থা হয়। সামনে বর্ষাকাল, এমন অবস্থা থাকলে আরো দুর্ভোগ বাড়বে। দীর্ঘদিন রাস্তাটি বেহাল থাকলেও কারো কোনো মাথা ব্যাথা নাই মেরামতের জন্য। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
দৌলতপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার (এসও) মো. আল আমিন খান জানান, আমরা জরুরী পরিসেবার আওতায়। তাই অগ্নি নির্বাপন সেবা, মুমূর্ষ রোগী সেবা প্রদানে আমাদের ২৪ ঘন্টা প্রস্তুত থাকতে হয়। স্টেশনের সামনের এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে বেহাল। এই সড়কটি ধরে জরুরী মুহুর্তে আমাদের স্বাভাবিক চলাচল করতে ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি সংস্কার করা হলে একদিকে আমাদের স্বাভাবিক চলাচল অব্যহত হবে না, যে কারণে গৌন্তবে দ্রুত পৌচ্ছিয়ে সেবা শুরু করতে পারবো। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ((এলজিআরডি) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল ইসলাম সরদার জানান, সড়কটি মেরামতের ব্যাপারে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রদক্ষেপ গ্রহন করবো।



