খুলনায় দিনভর বৃষ্টি বেড়িবাঁধ ভাঙ্গার আতঙ্কে উপকূলবাসী

# গতকাল ৭.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড #
কামাল মোস্তফা ঃ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নি¤œচাপটি গভীর নি¤œচাপে পরিণত হওয়ায় এর প্রভাবে খুলনায় বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে। ফলে আতঙ্কে জেলার উপকূলীয় এলাকা কয়রা, দাকোপসহ কয়েকটি উপজেলার মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকাল থেকেই খুলনায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বইছে ঝড়ো বাতাস। স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় আড়াই থেকে তিন ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে বিশ্ব এতিহ্য সুন্দরবন। সুন্দরবনের দুবলার চরে স্বাভাবিকের তুলনায় তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সুন্দরবনের করমজলে পানি বেড়েছে আড়াই ফুট। এতে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নি¤œচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সাগরদ্বীপ ও খেপুপাড়ার কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সন্ধ্যা নাগাদ উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে এবং ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। নি¤œচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বর্তমানে গভীর নি¤œচাপের কারণে কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। গভীর নি¤œচাপের কারণে কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এদিকে, নদ-নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলনার উপকূল অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। কয়রা উপজেলার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নি¤œচাপের প্রভাবে কয়রায় সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে, সাথে ঝড়ো বাতাস। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ভয় কাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে। নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াপদা ছাপানোর সম্ভবনা রয়েছে। বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া সাপ্তাহিক পশুর হাটে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারীরা। দিনভর অপেক্ষা করেও মেলেনি ক্রেতা। খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান বলেন, নি¤œচাপের প্রভাবে খুলনায় দিনভর বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করেছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনায় ৭.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।



