স্থানীয় সংবাদ

লবনচরায় পলিথিন মোড়ানো যুবক হত্যার রহস্য উদঘাটন

# ত্রিভুজ পরকিয়া প্রেমের বলি হলেন নাঈম #
# হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড খুলনার র‌্যাব সদস্য, নিহত যুবক ও র‌্যাব সদস্য দুজনই এক নারীর পরকিয়া প্রেমিক,
# হত্যাকান্ডে সহযোগীতা করে প্রেমিকা ও তার মা, পুলিশি অভিযানে আটক ৩ জন
# দৈনিক প্রবাহের অনুসন্ধানী রিপোর্ট (বক্স হবে)

মোঃ মুশফিকুর রহমান (মেহেদী) ঃ গত ২৩ মে ভোর চারটায় লবনচরা থানার শিপইয়ার্ড মেইন রোডে পলিথিনে মুখমন্ডল প্যাঁচানো এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার ছয় দিন পার হলেও হত্যাকা-ের ঘটনা নিয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। অজানা কোন এক কারণে প্রশাসনের নিকট থেকেও মেলেনি তথ্য। তাছাড়া নিহত যুবকের পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রেও সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা। দীর্ঘ ছয় দিন পর দৈনিক প্রবাহ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে পলিথিনে মুখম-ল মোড়ানো ওই যুবকের হত্যার রহস্য। এ ঘটনা যেন হিন্দি কিংবা তামিল থ্রিলার সিনেমাকে হার মানাবে। মূলত এক বিবাহিতা নারীর সাথে ট্রাইংগেল পরকীয়া প্রেমের কারণেই হত্যা করা হয় এই যুবককে। এই হত্যার মূল মাস্টারমাইন্ড খুলনা র‌্যাব-৬ এর সদস্য রুনু বাবু।এই হত্যাকা-ে রুনু বাবুর সাথে সহযোগিতা করে তাদের প্রেমিকা ও প্রেমিকার মা। রুনুবাবু মূলতঃ বাংলাদেশের একটি সরকারী বাহিনীর সৈনিক। ডেপুটেশনের মাধ্যমে খুলনা র‌্যাব ৬ এ যোগদান করেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত নাঈম মোল্লা(২৩) খুলনা শিপইয়ার্ডের ক্যাজুয়ালে আউটডোরের পাইপ ফিডারের কর্মচারী ছিলেন। তিনি শিপইয়ার্ড ক্যাজুয়াল কলোনিতে থাকতেন। তার পৈত্রিক নিবাস বাগেরহাট মোড়লগঞ্জের তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে। অভিযুক্ত ওই নারী শিপইয়ার্ড এলাকায় থাকতেন। ওই নারীর স্বামী রয়েছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি এলাকা হওয়ায় বিবাহিতা ঐ নারীর সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়ায় নিহত যুবক নাঈম । মনোমালিন্যের কারণে নাঈমের সাথে ওই নারীর বনিবনা হয় না। নাঈমকে শিক্ষা দিতে ওই নারী নতুন সম্পর্কে জড়ায় র‌্যাব সদস্য রুনু বাবুর সাথে। ফলে ঘটনার দিন ২৩ মে রাত ৯ টার দিকে একটি স্থানে নিয়ে হাত মুখ বেঁধে পেটানো হয় নাঈমকে। এ সময় ওই র‌্যাব সদস্যের সাথে সহযোগিতা করে ঐ প্রেমিকা ও প্রেমিকার মা। তার মুখম-ল ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। হাত-পা নীল ও হলুদ রঙের কাপড় এবং পলিথিন দিয়ে মুখ বেঁধে আঘাত করা হয়। এক পর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে তথ্য পাওয়া গেছে । হত্যা করে লাশটির মুখ পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ফেলে রাখে রুনুবাবুসহ ৩ জন।
উল্লেখ্য, সেই রাতে প্রায় ৪ টায় শিপইয়ার্ড মেইন রোডের মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের বাড়ির পেছনের ভাড়াটিয়া আশরাফুল ইসলামের কুকুরের ডাক শুনে ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় বাইরে এসে নাঈম নামক ঐ ব্যক্তির লাশ দেখতে পায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে লবণচরা থানা পুলিশ । এছাড়া পিবিআই ও সি আই ডির ক্রাইম সিন বিভাগসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ ঘটনাস্থলে আসে। হত্যাকা-টি ক্লুলেস হওয়ায় ছায়া তদন্তে নামে পুলিশ। কিন্তু লাশের গায়ে একটি চুল জড়িয়ে থাকায় সন্দেহের তালিকায় থাকে কোন এক নারী। এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুরাতন প্রেমিককে পরিকল্পনা করে হত্যা করলেও, কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছে ,সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গোপন সূত্রে জানা যায়, র‌্যাবে কর্মরত ওই যুবক হত্যাকা-টি ঘটানোর পর ছুটি নিয়ে নিজ গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তখন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে বিষয়টি প্রচার হলে , একটি বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে বলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কে এম পি)এর মিডিয়া সেল থেকে তথ্য জানানো হয়নি। এ বিষয়ে কে এম পি’র উপ কমিশনার মো: আবু তারেক বলেন, অপরাধী যেই হোক, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। তবে, এই হত্যাকা-ে একজন বাহিনীর সদস্য জড়িত রয়েছে। ফলে পুলিশ কমিশনার মহাদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মিডিয়া ব্রিফিং করা হয়নি। তবে আসামীদের আটকের পর আদালতে তোলা হয়েছে। আসামীদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেওয়া হয়েছে। অতঃপর আদালত আসামীদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button