ঘুষ দুর্নীতি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মহেশপুর আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

# তদন্ত কমিটি গঠন #
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঃ ঝিনাইদহের মহেশপুর আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা খুশি খাতুনের বিরুদ্ধে ঘুষ দূর্নীতির অবিযোগ উঠেছে। প্রশিক্ষণে উপস্থিত না থাকা, বরাদ্ধের টাকা না দেওয়া, মাষ্টাররোলে জাল স্বাক্ষর করে সরকারি আর্থ আত্মসাত, ঘুষ নিয়ে বয়সসীমা উত্তীর্ণদের দিয়ে প্রশিক্ষণ করানোসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গেল ২৮ মে বুধবার ভিডিপি শ্যামকুড় ইউনিয়ন দলনেত্রী নাঈমা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপমহাপরিচালক (প্রশাসন), উপপরিচালক (মনিটরিং) উপপরিচালক (সমম্বয়) ও ঝিনাইদহ জেলা কমান্ড্যান্টের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে ১ জুন রোববার তদন্তের নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, আনসার ভিডিপির মৌলিক প্রশিক্ষণের ৪র্থ ধাপে বয়সসীমা উত্তীর্ণ ৮জন প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়ে প্রশিক্ষণ করার সুয়োগ করে দিয়েছেন আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা খুশি খাতুন। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স কম দেখিয়ে মাষ্টাররোল তৈরি করেছেন। নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী প্রশিক্ষণকরা তানিয়া খাতুনের জন্ম সাল ১৯৯৮ থাকলেও ভুয়া পরিচয় পত্রে ২০০২ সাল দেখানো হয়েছে। এভাবে হাসিনা খাতুন, রেশমা খাতুন, আছমা খাতুন, মিজানুর রহমান, জুলেখা পারভীন, আরজিনা খাতুন, মিনারা খাতুনকে বয়স কম দেখিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়ে প্রশিক্ষণ করার সুয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ২৬ শে মার্চ পালনে সরকারি ভাবে ৩২ জন সদস্য দিয়ে প্যারেড পরিচালনা করার কথা থাকলেও তিনি মাত্র ১৬ জন সদস্য দিয়ে প্যারেড পরিচালনা করান। কিন্তু মাষ্টাররোলে ৩২ জনের নাম দিয়ে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাত করেন। অনুস্থিত, অবসরপ্রাপ্ত ও গার্মেন্ট কর্মীদের নামে যাতাযাত ও দৈনিক ভাতা উত্তোলন করে সরকারি টাকা আত্মসাত করেছেন। ২৬ শে মার্চে ভিডিপির অংশগ্রহণকারী সদস্যদের মাস্টাররোলে ১০নং ক্রমিকে মাসুদ রানা প্যারেডে উপস্থিত না থাকলেও তারে নামের পাশে জাল স্বাক্ষর করে সরকারি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ২৩ ও ২৭ ক্রমিকের শওকত আলী ও সরফরাজ অবসর প্রাপ্ত সদস্য। ২০ ও ৩০ ক্রমিকে দেলোয়ার হোসেন ও ফারুক হোসেন দুজনে স্থানীয় একটি গার্মেন্টের কর্মী। ওই দিন তারা কেউই প্যারেডে অংশগ্রহণ করেননি।
এছাড়াও প্যারেডে ব্যবহারের জন্য ২৪ মে মহেশপুর বাজারের বিলাসী ষ্টোরের ২০৩৮ নম্বর বিল ভাউচারের ৪ হাজার ৮০০ টাকায় ৩২ টি হ্যান্ডগলফ ও ৩২ জোড়া এ্যাংল্পেট ক্রয় দেখিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। প্রকৃতপক্ষে বিলাসীষ্টোরে এধরনের কোন মালামাল বিক্রয় করেন না। সরকারের খাত থেকে ভুয়া বিলভাউচারে তিনি ওই টাকা আত্মসাত করেছেন।
মৌলিক প্রশিক্ষণ করা তানিয়া খাতুন বলেন, বয়সের ব্যাপারে আমার জানা ছিলো না। আমি খায়রুল আলম স্যারের কাছে কাগজপত্র দিয়ে প্রশিক্ষণ করেছি।
মাস্টাররোলে নাম থাকা মাসুদ রানা বলেন, ২৬ শে মার্চের প্যারেডে আমাকে ডাকা হয়নি। কে আমার নামে টাকা উত্তোলন করেছে তা আমি জানিনা।
অবসরপ্রাপ্ত সদস্য শওকত আলী বলেন, আমাকে গত বছরের অবসর দেওয়া হয়েছে। কে আমার নামে টাকা উত্তোলন করেছেন তা জানা নেই।
বিলাসী স্টোরের মালিক আনিচুর রহমান বলেন, আমি এসব মাল বিক্রি করি না। তবে ওই অফিস আমার কাছ থেকে সাদা বিল ভাউচার নিয়ে গেছে।
এব্যাপারে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা খুশি খাতুন বলেন, ২৬ শে মার্চের প্যারেডে ওই মাস্টাররোলটি আগে তৈরি করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে তারা আসতে না পারার কারণে অন্য আরেকটি মাস্টাররোল তৈরি করে জমা দেওয়া হয়েছে। বিলাসী স্টোরের বিল ভাউচারে আমি স্বাক্ষর করেছিলাম কিন্তু টাকা উত্তোলন করিনি। বয়সমীসা উত্তীর্ণ সদস্যরা প্রশিক্ষণ করার ব্যাপারটা নিয়ে তদন্ত চলছে।
শৈলকুপা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার তদন্ত করা হয়েছে। তবে বয়সসীমা উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীরা তদন্তের দিন না আসায় তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয়নি।



