স্থানীয় সংবাদ

কৃষির আধুনিকায়নে ‘খামারি মোবাইল অ্যাপ’ ও ‘ক্রপ জোনিং সিস্টেম’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে

# বিএআরসি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় : অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম #

স্টাফ রিপোর্টার : কৃষিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করতে ‘খামারি মোবাইল অ্যাপ’ এবং ‘ক্রপ জোনিং সিস্টেম’র মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রযুক্তিগুলো কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে একদিকে যেমন উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে, তেমনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম। সোমবার (২ জুন) ডিএই খুলনা অঞ্চলের কার্যালয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) আয়োজিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। তিনি তার বক্তৃতায় আরো বলেন, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির কারণেই কৃষি আজ আধুনিকতার ছোঁয়া পাচ্ছে। সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলেই আজ কৃষি খাত ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হয়ে উঠছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
ক্রপ জোনিং প্রকল্প পরিচালক (কম্পিউটার ও জিআইএস ইউনিট) হাসান মো. হামিদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই খামারবাড়ি ঢাকার অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. মো. জামাল উদ্দীন। স্বাগত বক্তৃতা করেন সয়েল এক্সপার্ট, ক্রপ জোনিং প্রকল্প, বিএআরসির মোঃ ছাব্বির হোসেন। খামারি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার বিষয়ক উপস্থাপনা করেন রিমোট সেনসিং এনালিস্ট, ক্রপ জোনিং প্রকল্প (বিএআরসি)’র মোস্তফা আতিকুল মাজিদ। প্রশিক্ষণ কর্মশালার আরো উপস্থিত ছিলেন, আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার বিভাষ চন্দ্র সাহা, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যক্ষ ও কৃষিবিদ এস এম ফেরদৌস, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ কাজী জাহাঙ্গীর হোসেনসহ খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সমূহের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ডিএই খুলনা অঞ্চলের কর্মকর্তাদের ‘খামারি মোবাইল অ্যাপ’ এবং ‘ক্রপ জোনিং সিস্টেম’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে , ‘ক্রপ জোনিং সিস্টেম’ হচ্ছে একটি আধুনিক কৃষি পরিকল্পনা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে মাটি, আবহাওয়া, পানির প্রাপ্যতা এবং স্থানীয় কৃষি বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে কোন অঞ্চলে কোন ফসল চাষ উপযুক্ত হবে তা নির্ধারণ করা যায়। এতে করে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হন। অন্যদিকে,‘খামারি মোবাইল অ্যাপ’একটি স্মার্টফোন ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন যা কৃষকদের সরাসরি কৃষি তথ্য, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সারের সুপারিশ,ফসল বীমা ও নিকটবর্তী বাজার মূল্যের তথ্য প্রদান করাসহ এ অ্যাপ মাধ্যমে কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তব সময়ের সহায়তা প্রদান করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষিতে টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল চাষাবাদ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button