স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে ভবন মালিক কর্তৃক আইটি ফার্মের ৪০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ

# নারী উদ্যোক্তার উপর হামলা, অর্থ লুটের অভিযোগে আদালতে ৪জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরীতে ভবন মালিক কর্তৃক ‘কোডার্স প্যাসন’ নামক একটি আইটি ফার্মের ল্যাপটপ, কম্পিউটার, এসি, ফ্রিজ ও অফিসের অন্যান্য সরঞ্জাম সহ ৪০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ভবন মালিকের লোক কর্তৃক ভাড়াটিয়া আইটি প্রতিষ্ঠানের নারী উদ্যোক্তার উপর হামলা ও অর্থ ছিনতাইসহ সাক্ষীদের জীবননাশের হুমকীর অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ এনে সম্প্রতি খুলনার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আমলী আদালত সোনাডাঙ্গায় চারজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোডার্স প্যাশন নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নগরীর বাগমারা মেইন রোড এলাকার মোহাম্মদ রুস্তম আলী আকুঞ্জীর কন্যা মোসাম্মাৎ শাহীনা খাতুন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এজাহারে উল্লিখিত আসামীরা হলেন, নগরীর মুজগুন্নী দক্ষিণ পাড়া রোড এলাকার ‘কিছুক্ষণ’ নামক বাড়ির বাসিন্দা মঈনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম মোমেন, ফাহমিদা আক্তার ও খালিশপুরস্থ নয়াবাটি এলাকার মোহাম্মদ আলী মোল্লার ছেলে ইয়াসিন হোসেন ইমন।
এজাহারের উল্লেখ করা হয়, আইটি প্রতিষ্ঠান ‘কোডার্স প্যাসন’ এর স্বত্বাধিকারী নারী উদ্যোক্তা শাহীনা খাতুন নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আউটার বাইপাস রোড, পূজা খোলা এলাকার ম্যানগ্রোভ টাওয়ার-১ এর তৃতীয় তলায় ২০২০ সালের ৮ আগস্ট একটি ফ্লাট অফিস হিসেবে ভাড়া নেন। তিনি সততার সাথে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু ভবন মালিক মঈনুল ইসলামের সঙ্গে মতবিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে আসামীরা ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পেশী শক্তি প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়। এতে প্রতিষ্ঠান মালিক আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। বিষয়টি পরবর্তীতে দু’ পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর অফিসের বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করে মালামাল প্রতিষ্ঠান মালিক বুঝে নেবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তিনি ভাড়া পারিশোধ করলেও অফিসের মালামাল তাকে ফেরত দেওয়া হয়নি। এসব মালামালের মধ্যে রয়েছে ৪টি এসি, একটি ফ্রিজ, কনফারেন্স টেবিল, ২৯টি চেয়ার, ১০টি লেপটপ, ১০টি মনিটর, ২টি ডেস্কটপ, অফিস কেবিনেট, আলমারি, সিসি ক্যামেরা, ক্যামেরা ডিভাইস, টিফি ও ফ্যানসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল। এছাড়াও ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে আরও ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। এমনকি ঘটনার দিন গত ১০ মে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী অফিসে গেলে চাবি কেড়ে নেওয়া হয় এবং সাক্ষীসহ তাদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর এবং অর্থ লুট করে নেওয়া হয়। এমনকি তাদের জীবন নাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইটি প্রতিষ্ঠানটির মূল স্বত্বাধীকারি ময়মনসিংহ জেলা সদরের গঙ্গাদাস গুহ রোডস্থ ইএটিএন্ডটি কোয়াটার এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকের পুত্র মেহেদী হাসান গত ২৫ মে প্রতিষ্ঠানের সকল মালামাল প্রতিষ্ঠানটির সহ স্বত্বাধিকারী ও তার ব্যবসায়ীক পার্টনার শাহিনা খাতুনকে এফিডেভিটের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। কিন্তু মেহেদী হাসানের পারিবারিক বিষয়ের ইস্যুকে কেন্দ্র করে অফিস ভবনের মালিক পক্ষ শাহিনা খাতুনের সঙ্গে অহেতুক বিরোধে জড়ায়।
মামলার বাদী আইটি প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শাহিনা খাতুন অভিযোগ করেন, মেদেহী হাসানের সঙ্গে ভবন মালিক ও তার ভাই-বোনের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের জেরে তাদের মধ্যে কোন বিরোধ সৃষ্টি হলে সেই দায়ভার তার নয়। কিন্তু তারা তার প্রতিষ্ঠানের ৪০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটকে রেখে এবং ৫০ লক্ষাধিক টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতিসহ প্রায় কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তিনি। তিনি আদালত ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এর প্রতিকার দাবি করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. এম মাফতুন আহমেদ বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button