স্থানীয় সংবাদ

আর কত লাশ হলে এরা হবে শান্ত!

মোঃ বেনজীর হোসেন, রূপসা প্রতিনিধি :
রূপসা ঘাট পারাপারের নিয়ম-নীতির কোন তোয়াক্কা না করেই অবাধে চলছে ট্রলার: কোন অদৃশ্য সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে এই জনবহুল ঘাট প্রশ্ন যাত্রীদের রূপসা ঘাটে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না মাঝিদের দৌরাত্ম। বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মী যেন এই ঘাটের নিয়মে পরিণত হয়েছে। মানুষের শত চেষ্টা এদের লাগাম টানতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। শিশুশ্রম, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অতিরিক্ত ভাড়া ও সীমাহীন দুর্ব্যবহার যেন এই জনবহুল ঘাটের চিরাচরিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। এভাবেই পারাপার হতে হয় দক্ষিণাঞ্চলের জনবহুল এই রূপসা ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীদের। যে সময়ে যে সরকার আসে না কেন, তারা সেই সরকারি দলে যোগ দিয়ে যুগের পর যুগ ধরে এই ঘাটে রাম রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। পূর্ব রূপসার ঘাট এলাকার কিশোর গ্যাং এর নেতৃত্ব দিচ্ছে এই ঘাট মাঝিরা। ঘাট পারাপারে এরা নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে তারা অতিরিক্ত হারে পারানি আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে। এর কারণে এখানে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এদিকে গত পরশু রাতে নদীতে পড়ে যাওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিশুর নাম আবু রায়হান (৬) তার বাড়ি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার লকপুর গ্রামের। দীর্ঘদিন ধরে রূপসা ঘাট এলাকায় একের পর এক নৌকা থেকে মানুষ নদীতে পড়ে মৃত্যু হলেও এ ব্যাপারে ঘাট মাঝিদের কোন মাথা ব্যাথা নেই। সরকারি নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না’করে তারা যাত্রী প্রতি ৪,৫ এমনকি ১০ টাকা হারে পারানি আদায় করছে। যার কোন সঠিক কাগজপত্র তাদের নেই বলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়েছে। রূপসা ঘাটের ট্রলার থেকে একের পর এক লোক নদীতে পড়ে ডুবে করুন মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও তারা ড্যাম কেয়ার।
ঘাট মাঝিদের তৈরি আইন অনুযায়ী ছোট ট্রলারে ২৫ জন বড় ট্রলারে ৩৫ জন যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও তারা সে নিয়মের তোয়াক্কা না করে ছোট ট্রলারে ৪০ জন এবং বড় ট্রলারে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে প্রতিদিন পারাপার করছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এরা চার থেকে পাঁচ টাকা করে পারানি আদায় করে। সন্ধ্যার নামার সাথে সাথে তারা হয়ে ওঠে বেপরোয়া। সন্ধ্যার পর একটু রাত হলেই জনপ্রতি ১০টাকা করে পারানি আদায় করা হয়। রাত এগারোটার পর এই ট্রলারের মালিকানা চলে যায় স্থানীয় এক শ্রেণীর সিন্ডিকেটকারীদের হাতে। রাত দশটার পর তারা ইচ্ছামাফিক লোক ও টাকা নিয়ে যাত্রীদের পারাপার করে । যার একটি অংশ যায় ট্রলার মালিকদের কাছে আর একটি অংশ ভাগ করে নেয় এই সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে ,এইসব সিন্ডিকেট গ্রুপ বিভিন্ন নেশায় আক্রান্ত হয়ে ট্রলার চালানোর কারণে তারা চোখে শস্যের ফুল দেখে এবং কার সঙ্গে কি ধরনের ব্যবহার করতে হবে তারা সেটা ভুলে যায়। এই ঘাট মাঝিরা সব সময় ক্ষমতাসীন দলের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যস্ত থাকে ও তাদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে। তাই তারা কোন কিছুর তোয়াক্কাই করে না। অথচ প্রতিনিয়তই দীর্ঘ হচ্ছে এই ঘাটের মৃত্যুর মিছিল। গত পরশু রাতে পশ্চিম রূপসা ফেরিঘাট থেকে ট্রলারে পূর্ব রূপসায় আসার সময় আবু রায়হান (৬)নামের এক শিশু নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও ডুবুরি-রা তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত শিশুর বাড়ি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার লকপুর গ্রামে। আর কত লাশ পেলে এই মাঝিরা খুশি হবে তার কোন পরিসংখ্যান জানা নেই। অপরদিকে ঘাট ইজারাদারা পূর্ব পশ্চিম পাড়ের ঘাটের নিয়ন্ত্রণ না করায় তারা আরো বেশি বেপরোয়া। রাতে কোন ট্রলারে বাতির কোন ব্যবস্থা নেই। এখানেও চলাচলরত যাত্রীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে এ বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও ইউএনও মহোদয়ের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগী মহলের প্রত্যাশা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button