স্থানীয় সংবাদ

খুলনা বিআরটিএ’তে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে হাঙ্গামা

# এক পক্ষের মামলা দায়ের, গ্রেফতার দুই
# প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত ৩
# যাদের হামলায় গুরুতর জখম, তারাই উল্টো মামলা দিলো : দোকানীদের দাবি #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিআরটিএ’তে মোটরসাইকেলের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করা নিয়ে বিরোধে গাড়ির মালিক ও কম্পিউটার দোকানদার পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। গাড়ি মালিকের মামলায় গ্রেফতার হয়ে গুরুতর আহত দোকান মালিকের দুই ছেলে হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ সময় দোকান মালিকের দুটি গাড়ি ও ভাংচুর হয়। ঘটনার জন্য স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে দায়ী করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
নগরীর দৌলতপুর মহেশ^রপাশা কেদারনাথ রোডের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন এ ঘটনায় খানজাহান আলী থানায় মামলা করেন (মামলা নং-১০)। এজাহাওে তিনি বলেন, গত ২০ জুলাই তিনি সদ্য কেনা মটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের জন্য বাদামতলা বিআরটিএ অফিসে যান। কাজ সম্পন্ন হলে অফিস থেকে বলা হয়, দোকান থেকে অনলাইন আবেদন করিয়ে আনতে। তিনি বাদামতলা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সামনে মোড়ল মার্কেটে একটি দোকান থেকে ২৫০ টাকার বিনিময়ে অনলাইন আবেদন করেন। আধা ঘন্টা পরে গেলে তারা বলে, নামের বানানে ভুল আছে। সংশোধন করতে দুই হাজার টাকা লাগবে। এ নিয়ে বাদানুবাদের পর তিনি ২৩ জুলাই পুনরায় গিয়ে তার কাজটি করে দিতে বললে দোকান মালিক শেখ মনিরুল ইসলাম, তার তিন ছেলে শোভন শেখ, শাওন শেখ, শিপন শেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ৮/১০ জন তাদের ওপর হামলা করে। তারা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে সোহাগ মোল্লার শোল্ডারের হাড় ফাটিয়ে দেয় এবং এক লাখ বিশ হাজার টাকা মুল্যের স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নেয়। অপর একজনের পকেট থেকে দুই হাজার টাকা তুলে নেয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে দোকান মালিকের ছেলে শোভন শেখ বলেন, বিআরটিএ’তে রেজিস্ট্রেশনের সময় যে নাম উনি এন্ট্রি করিয়ে ছিলেন তার সাথে এনআইডি কার্ডের নামে মিল ছিলনা। যে কারণে সার্ভারে নিচ্ছিল না। বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বললেও তিনি জোর করছিলেন রেজিস্ট্রেশনের জন্য। এ ঘটনা দুইদিন আগের। হঠাৎ করে বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে তিনি অনেক লোকজন নিয়ে দোকানে আসেন। তার সাথে থান াবিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা সোহাগ ছিল। কথা বলার এক পর্যায়ে আমার বাবার গায়ে হাত তোলে। আমরা ভাইয়েরা প্রতিবাদ করলে বিএনপি নেতা সোহাগ মোল্লার লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আমাদেরকে গুরুতর জখম করে। শিপনের পায়ের জখম গুরুতর। তাকে জরুরী অপারেশন না করালে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। আমার মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে। শাওনের সারা শরীরে জখম। আমরা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ছোটাছুটি করছি। তাদের পক্ষের কেউই আহত হয়নি। মারামারির সময় আমাদের একটা প্রাইভেটকার ও একটা পিকআপ তারা ভাংচুর করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত আমরা, অথচ উল্টো আমাদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
তবে মোল্লা সোহাগ দাবি করেন, অ্যাডভোকেট কামাল ভাইকে তারা একটা ভুয়া দুই নাম্বার কাগজ করে দেয়। কাগজটা নিয়ে এডি সাহেবের কাছে গেলে উনি বিষয়টি বুঝতে পেরে অনলাইন আবেদন ক্যানসেল করতে বলেন। কিন্ত দোকানদাররা ক্যান্সেল না করে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে গেলে সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। এরা সবগুলো ভাই আগে ছাত্রলীগ করতো। এখন নাকি তারা সমন্বয়ক হয়েছে।
খানজাহানআলী থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। আমার দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছি। মোল্লা সোহাগের হাড়ে ফ্রাকচার হয়েছে শুনেছি, উনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট কামলা হোসেন বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button