স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে স’মিল শ্রমিক আহত

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরীর ২নং কাষ্টমঘাট এলাকায় ৪টি মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে সোহেল (২৮) নামে এক স’মিল শ্রমিক আহত হয়েছেন। রবিবার (৩ আগস্ট) রাত পৌনে ৮ টার দিকে এঘটনা ঘটে। এসময় সোহেল একটি সেলুনের সামনে দাড়িয়ে ছিল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। সোহেল ওই এলাকার মনিরুল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া স্বপন শিকদারের ছেলে এবং সৌরভ স’মিলের শ্রমিক। প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, সোহেল সন্ধ্যার পর মোড়ে দাড়িয়ে ছিল। এসময় ৪-৫টি মোটরসাইকেল এসে সন্ত্রাসীরা সোহেলকে গুলি করে। এলাকায় তার কোন শত্রু ছিল না। তবে ২৭ জুন রূপসা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের পপুলার এলাকার সোহাগের বাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাব্বির ও সাদ্দাম নামের দু’সন্ত্রাসী নিহত হয়। এসময় অপর সন্ত্রাসী মিরাজ ওরফে কাউয়া মিরাজ গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় মিরাজ সোহেলকে দায়ী করে। প্রতিশোধ নিতে কাউয়া মিরাজের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা সোহেলকে গুলি করেছে। মিরাজ ও তার ভাই ইলিয়াস এর আগে ২নং কাষ্টমঘাট এলাকায় ইট-বালু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে কাজ করত। মিরাজের রনি হত্যা, শ্রিপরা রানী কুন্ডু হত্যা, সাবেক কাউন্সিলর ডনকে হত্যা প্রচেষ্টা, জেলা স্কুলের সামনে ৩০ লাখ টাকা ছিনতাইসহ একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। মিরাজ বর্তমানে নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবু’র সহযোগী হিসেবে কাস্টমঘাট এলাকার শিমুল, মনির, রিপন ওরফে চোর রিপন, ইনু, ইমরান, হালিমসহ আরও অনেকেকে নিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। আহত সোহেলের মামা মনির হোসেন জানান, সন্ধ্যার পরে সোহেল মোড়ের একটি সেলুনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় ৪-৫ মোটরসাইকেলে এসে সন্ত্রীরা সোহেলকে গুলি করে। একটি গুলি তার পেটে বিদ্ধ হয়। তাকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, ঘটনার সময়ে আহত ওই যুবক ২নং কাষ্টমঘাট নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি সেলুনের সামনে অবস্থান করছিল। এ সময়ে ৪-৫ মোটর সাইকেলযোগে কয়েকজন সন্ত্রাসী যাদের সকলের মুখ বাঁধা এবং হেলমেট পরিহিত ছিল। সোহেলকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়লে একটি তার পেটে বিদ্ধ হয়। এ সময়ে ওই যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় মাদক আইনে ৪টি মামলা রয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মো. আবু তারেক (দক্ষিণ) বলেন, আহত স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য। মাদক এবং টাকার লেনদেন নিয়ে ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button