স্থানীয় সংবাদ

অতি আওয়ামী বন্দনায় পুড়েছে খুলনা বেতার

# বেতারে ক্ষতি শতকোটি টাকা, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা
# সম্প্রচার চলছে পরিক্ষামূলকভাবে
# ছাত্রজনতার মতে, রাজনৈতিক তোষণে ক্ষোভের শিকার বেতার

কামাল মোস্তফা ঃ ফ্যাসিস্ট সরকারের অতিমাত্রায় তোষণে জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার ক্ষোভের শিকার হয় বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র। বেতারের সামনে থাকা বিশালাকৃতির শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষ্কর্য ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। তবে এক শ্রেণির সুযোগ সন্ধানী দুষ্কৃতিকারিরা চালায় লুটপাট। নিয়ে যায় দামি দামি মালামাল ও যন্ত্রপাতি। এরপর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ভবনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্রসহ সবকিছু।
সাধারণ ছাত্র-জনতার অভিযোগ, বেতারের ২৪ ঘন্টার অনুষ্ঠানমালার পুরোটা সময় জুড়েই থাকতো মুজিব বন্দনায়। ছাত্র-জনতার উপর নির্যাতন-নিপীড়ন চলাকালিন সময়েও সরকারি এ প্রচার মাধ্যমটি ফ্যাসিস্ট তোষণে ব্যস্ত সময় পার করেছে। জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকার পরও বেতারের ভিতরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের মুরালকে ঘিরে তীর্থস্থানে পরিণত করা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।
জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ৪ ও ৫ আগস্ট দুষ্কৃতিকারীরা দফায় দফায় খুলনা বেতার লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে খুলনা বেতার ভবনের একাধিক কক্ষ, সম্প্রচারের মূল্যবান যন্ত্রপাতি লুটপাট ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিসংযোগের কারণে বেতারকেন্দ্রের অবকাঠামো, সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত যন্ত্রপাতিসহ সব কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অবকাঠামো ও অন্যান্য জিনিস মিলে শতকোটি টাকার ওপরে ক্ষতির শিকার হয় সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তাই নয় আগুনে পুড়ে যায় গত ৫৪ বছরের নথিপত্রসহ সংরক্ষিত অমূল্য সম্পদ। বন্ধ হয়ে যায় সম্প্রচার।
৫ আগস্ট বেলা ২টা পর কয়েকশ’ মানুষ সেখানে ঢুকে প্রায় সন্ধ্যা পর্যন্ত তান্ডব চালায়। এর সঙ্গে চলে ভাঙচুর আর লুটপাট। খুলে নেওয়া হয় মেশিনসহ দামি দামি যন্ত্রপাতি। এরপর করা হয় অগ্নিসংযোগ। স্টুডিও ভবন, রেকর্ডিং রুম, ট্রান্সমিশন রুম, এমসিআর রুম পুড়ে যায়। আর গুদাম ঘর, কন্ট্রোল রুমসহ আশপাশের সব কিছুই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন) খুলনার সম্পাদক এ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈর শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। সারা দেশে সরকারের পেটোয়া বাহিনির নির্মম হত্যাযজ্ঞে ফুসে ওঠে খুলনা। আওয়ামী সরকারের লেজুড়বৃত্তি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিক্ষুদ্ধ মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় খুলনা বেতারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও বলেন, জনগণের ট্রাক্সের টাকা খরচ করে অপ্রয়োজনে বেতারের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানের মুরাল তৈরি মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। ৫ আগস্টে জনগণ তার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে সেখানে। তবে কিছু সুযোগ সন্ধানি মানুষ লুটপাট চালিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদেও ক্ষতি সাধন করেছে, সেটা দুঃখজনক।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপদেষ্ঠা মিনহাজুল আবেদিন সম্পদ বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অতিমাত্রায় দলীয়করণ, চেতনার নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে মুজিবের মুরাল তৈরি সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেনি। বিশেষত খুলনা বেতারের সামনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে মুরাল তৈরি, বেতারের অনুষ্ঠানমালার অধিকাংশ সময় জুড়ে মুজিব বন্দনা ছাত্র-জনতার ক্ষোভকে বাড়িয়ে দেয়। সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের উপরে মানুষের কোন ক্ষোভ থেকে বেতারে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেনি, এটা মূলত দীর্ঘ স্বৈরশাসনের যাতাকলে পিষ্ট মানুষের দীর্ঘ নিশ^াসের প্রতিফলন।
বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক মোঃ শামীম হোসেন বলেন, ৪ ও ৫ আগস্টে খুলনা বেতারে ভাংচুর, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বেতারকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করায় জুলাই-আগস্টে মানুষের ক্ষোভের শিকার হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অগ্নিসংযোগে স্টুডিও, রেকর্ডিং রুম, ট্রান্সমিশন রুম, এমসিআর রুম পুড়ে যায়। ফলে সেসময় সম্প্রচার বন্ধ ছিল। তবে পরিক্ষামূলকভাবে সম্প্রচার চলছে এখন। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button