রামপালে পুলিশের উপস্থিতিতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ : আহত প্রায় অর্ধশত

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় একটি ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্ততঃ অর্ধশত আহত হয়েছেন। কয়েক দফা সংঘর্ষের সময়কালে ঘটনাস্থল উপজেলার মল্লিকের বেড় ইউনিয়নের সন্ন্যাসী বাজারের ১৫/২০টি দোকান ও পাশের কয়েকটি বসতবাড়ী ভাঙচুর করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরে দুই সভাপতি প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। বিভিন্ন সময় উভপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। গত শনিবার রাতে ইউনিয়নের বেতবুনিয়া পাকা রাস্তার মাথায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলিমের লোকজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শামীম হাসান পলকসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। ওই রাতেই আহতদের বাগেরহাট জেরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে রবিবার বিকেলে আব্দুল আলিমের প্রতিদ্বন্ধি সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শামীম হাসান পলকের লোকজন সন্ন্যাসি বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের আয়োজন করেন। মানব বন্ধনের জন্য জড়ো হতে থাকলে আব্দুল আলিম হাওলাদারের লোকজন অতর্কিতভাবে সাজারুল ইসলাম সাজু ও তার লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজুসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এই হামলার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সাজারুল ইসলাম সাজু ও তার লোকজন আব্দুল আলিমের লোকজনের ওপর হামলা করে। এসময় তারা আব্দুল আলিমের বসতবাড়ি, সন্ন্যাসী বাজারের ২০টি দোকান ভাঙচুর করে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশের সামনেই সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু, সাবেক যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম ও তার লোকজন দফায় দফায় আব্দুল আলিমের লোকজনকে ধাওয়া করে এবং মারধর করে। বাজারের বিভিন্ন দোকান ভাঙচুর করে। আর বাজারের পাশে থাকা দুটি ভবনের ছাদ থেকে সাজুর লোকদের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। কর্তব্যরত পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করলেও কেহ পুলিশের কথা শোনেনা বলে জানান স্থানীয়রা। রামপাল থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি পরিস্থিতি শান্ত রাখতে। উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল ছুড়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমরা তাদেরকে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছি। মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, পুলিশ আসছিল রামপাল থানা থেকে। পুলিশের সামনেই আব্দুল আলিমের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে। সংঘর্ষে আহত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু বলেন, সভাপতি প্রার্থী আব্দুল আলিম হাওলাদারের লোকজন আমাদের হামলা করে। আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা চেয়েছিলাম শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করতে কিন্তু তারা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা করে।



