নগরীতে রাত বাড়তেই সংঘবদ্ধ কুকুর আতঙ্ক!

# রাত নামতেই এসব সংঘবদ্ধ বেওয়ারিশ কুকুরের মিছিল নামছে শহরজুড়ে, নিয়ন্ত্রণের দাবি #
# একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে কুকুরের অবাধ বিচরণ ও সংখ্যা রোধের উদ্যোগ কেসিসির #
মোঃ আশিকুর রহমান ঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেওয়ারিশ কুকুর একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখলেও সম্প্রতি সময়ে নগরীতে রাত বাড়তেই সংঘবদ্ধ কুকুর আতঙ্কে নগরবাসী। সম্প্রতি সময়ে সমগ্র নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে, স্থানীয় এলাকায় সংঘবদ্ধ কুকুরের অবাধ বিচরণ এই আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে তুলছে। নগরীতে রাত বাড়তে না বাড়তেই এসব সংঘবদ্ধ বেওয়ারিশ কুকুরের মিছিল নামছে শহরজুড়ে। এসব কুকুরের সংখ্যা এবং অত্যাচার এতোটাই বেড়েছে যে, কর্মশেষে বিভিন্ন শ্রেনীর পেশাজীবি মানুষ, পথচারী বাড়ী ফেরার সময় তাদের সংঘবদ্ধ আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে এসব বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমনের শিকার হয়ে অনেক পথচারী, রিক্সাচালক, মোটরসাইকেল আরোহী দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন, এছাড়াও এদের ডাকে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংঘবন্ধ কুকুর আতঙ্ক হতে বাচঁতে সংশ্লিষ্টদের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। সূত্রে জানা গেছে, গৃহস্থালী বা যে কোনো উৎস হতে প্রাপ্ত উৎশিষ্ট খাবার যেখানে সেখানে ফেলার দরুন কুকুরের আনাগোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেখানে খাবারের উৎস যেখানেই সংঘবদ্ধ কুকুর অবস্থান করে থাকে। যেখানে যেখানে গৃহস্থালী বা যে কোনো উৎস হতে প্রাপ্ত উৎশিষ্ট খাবার ফেলা রোধ করলেই কুকুরের আনাগোনা বা অবাধ বিচরণ বন্ধ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, যত্রতত্র খাবার না পেয়ে এসব সংঘবদ্ধ কুকুর অন্যত্র চলে যাবে। পাশাপাশি নগরবাসীর সচেনতা বাড়তে হবে, যেন গৃহস্থালী বা যে কোনো উৎস হতে প্রাপ্ত উৎশিষ্ট খাবার যত্রতত্র না ফেলেন। যত্রতত্র খাবারের উৎস না পেলে এসব বেওয়ারিশ কুকুর অন্যত্র চলে যাবে, এভাবেই নগরীর বিভিন্ন স্থানীয় এলাকায় আস্তে আস্তে সংঘবদ্ধ কুকুরের সংখ্যা রোধ পাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সারা বছর ধরেই কুকুর প্রজনন করলেও অতিমাত্রায় প্রজজনের প্রধান মৌসুম আগষ্ট মাসের মাঝামাঝি হতে নভেম্বরের শেষ সময় পর্যন্ত। যেহেতু আগষ্ট মাস চলমান তাই এসময় সংঘবদ্ধ কুকুরের বিচরণ দৃশ্যমান হচ্ছে।
পথচারী মামুন বলেন, ঢাকা জরুরী কাজে গিয়ে ছিলাম। সাড়ে ৩টা দিকে বাস থেকে নামিয়ে দেয় নতুন রাস্তার মোড়ে। রিক্সা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হাস খামারের সামনে যেতেই একদল কুকুর এসে ধাওয়া করে। ভয় পেয়ে দৌঁড় দেয়। আমার চিৎকারে আশপাশের কয়েকজন এসে কুকুরের হাত থেকে উদ্ধার করে। সংঘবদ্ধ কুকুরের হাত হতে বাঁচতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মটরসাইকেল আরোহী পিয়াল জানান, সম্প্রতি দৌলতপুরের অধিকাংশ মোড়ে মোড়ে ১০/১২ টি বেওয়ারিশ কুকুর সর্বদা অবস্থান করছে। একটু রাত বাড়তেই এতে অত্যাচার আরো বাড়ছে। দু’একদিন পরপরই পথচারিরা এসব কুকুরের অত্যাচারে দূর্ঘটনার কবলে পড়ছে। একই সাথে গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে কুকুরের ডাকে এলাকাবাসীর ঘুমের চরমভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। বর্তমানে এদের অত্যাচারের হাত হতে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। কাঠমিস্ত্রি আলামিন বলেন, প্রায় নিজের কাজ শেষ করে গভীর রাতে বাড়ী ফিরতে হয়। বর্তমানে এলাকায় কুকুরের অত্যাচার ব্যাপক আকারে বেড়েছে। রাতে একা একা চলাচল করা দুস্কর হয়ে পড়েছে। রাস্তায় একা পেলে কুকুরের হাত হতে আর রক্ষা মিলছেনা না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
দৌলতপুর বাজারের ব্যবসায়ী রফিক বলেন, আমার বাড়ী পালপাড়া ইসলামবাগ। আমার বাসার সামনে রাত বাড়তেই কিছু কুকুর বসে থাকে। কোনো পথচারীকে দেখলেই আক্রমন করে। এদের আক্রমনে অতিষ্ট সর্বমহল। সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষে। অচিরেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার।
এ ব্যাপারে সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’ খুলনার সাঃ সম্পাদক এড. কুদরত-ই খুদা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেওয়ারিশ কুকুর একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখলে এটা ঠিক আছে, তবে এদের অত্যাচার নগরবাসী পোহাবে এটা কাম্য নয়। কুকুর কখনো কখনো আতঙ্কের কারণও হয়। এ বিষয়টা দেখার জন্য কেসিসির একটা নির্দিষ্ট শাখা আছে। একটা সময় দেখতাম নিয়ন্ত্রনহীন কুকুর, পাগলা কুকুর নিধনে কেসিসি কাজ করছে। বর্তমানে কেসিসির এই কার্যক্রম অনেকাংশে দৃশ্যমান না। তাদের এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহন করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
এ ব্যাপারে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভেটেরিনারি সার্জন ড. পেরু গোপাল বিশ^াস জানান, তবে সম্প্রতি নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের অত্যাচার বৃদ্ধি পেয়েছে এমন অভিযোগ আসছে। কুকুর মারা এটা আমাদের কাম্য নয়, প্রাণী হত্যা দ-নীয় অপরাধ। একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে কিভাবে এসব সংঘবদ্ধ কুকুরের অবাধ বিচরণ রোধ করা যায় একটি স্ট্যাডির মাধ্যমে কিছু সুপারিশের মাধ্যমে কেসিসির উর্ধ্বতনদের নিকট প্রকল্প আকারে তুলে ধরার পরিকল্পনা গ্রহন করেছি। অদূর ভবিষ্যৎতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ণ হলে নগর হতে এসব বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ ও সংখ্যা রোধ পারে বলে জানান এ কর্মকর্তা।



