খুলনায় এসওএস শিশু পল্লীতে ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু তদন্তে নেমেছে শিশু সুরক্ষা জোট

# ঘটনার নানা আচরণে সন্দেহ বাড়ছে #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার এসওএস শিশু পল্লীতে শেখ জাদী ইসরাত জাহান (১৬) নামের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু তদন্তে নেমেছেন খুলনরা শিশু সুরক্ষা জোট নামের একটি বেসরকারি নাগরিক সংগঠন। তারই ধারাবাহিকতায় তারা সোমবার বিকেলে চার সদস্যের একটি টিম মাঠে যান। তারা মেয়ের বাবা মোঃ খালেক ও নানী মুসলিমা মনির সাথে কথা বলেন। তদন্তে ছিলেন জোটের আহবায়ক শামীমা সুলতানা শিলু, সদস্য সচির নাজমুল আজম ডেভিঢ, এড. মোমিনুল ইসলাম ও হীরা। স্বজনদের বরাত দিয়ে জোটের সদস্যরা জানান, ইসরাত জাহানের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিশু পল্লীর কর্তৃপক্ষ নানাভাবে চেষ্টা করছে। এই ইসরাত জাহান ১৪ মাস বয়সে মা হারান। বাবা ১৯ মাস বয়সে তাকে এই শিশু পল্লীতে দিয়ে আসনে। সেই শিশুটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে এখন নবম শ্রেনীর মেধাবী স্টুডেন্টে পরিণত হয়েছে। শুধু সে মেধাবীই ছিল না ছিল চৌকস গুণের অধিকারী। সে মারা যাওয়ার পর তার লাশ পুলিশের সহায়তা না নিয়ে কর্তৃপক্ষ লাশ নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসে। ৫ আগস্ট রাত সোয়া ৮টার পর থেকে ঘটনা জানার আগ পর্যন্ত যে কোন সময় ঘটতে পারে। তবে পল্লীর ম্যানেজার মেয়ের বাবাকে রাত ১২:৮টায় মোবাইলে বিষয়টি জানায়। এর আগেই তারা লাশ খুমেক হাসপাতালের ফ্রীজে রাখে। সব কিছু ঠিকঠাক করে তারপর স্বজনদের খবর দেয়া নিয়ে রহস্যের জট বেধেছে। দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এমন কি পুলিশের পক্ষ থেকে নানা অসঙ্গতি প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে স্বজনদের। যা আরো সন্দেহ ঘনিভূত হচ্ছে। তারপরও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর জানা যাবে কেন সদা হাস্যোজ্জল ইসরাত জাহান কেন বা কিভাবে মারা গেলো। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট রাত ১১টার দিকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার করে ইসরাত জাহান। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে পরিবারের দাবি, ইসরাত জাহান আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। ওই ছাত্রীর মামা সোনাডাঙ্গা আলামিন গলির বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নীর মা নেই। মাত্র ১৬ মাস বয়সে ওকে এসওএস শিশু পল্লীতে দেওয়া হয়। আমার ভাগ্নী অনেক হাঁসি খুশী ছিলো, মেধাবীও ছিলো। ও আত্মহত্যা করতে পারে না। আর যদি করে থাকে তাহলে ঝুলন্ত অবস্থায় আমাদের ডাকলো না কেন। পুলিশ বা আমাদের কাউকে না জানিয়ে কেন ঝুলন্ত মরদেহ নামালো। রাত সাড়ে ১২টার দিকে কেন ডাকলো। কি দিয়ে গলায় দড়ি দিয়েছে তার কোন প্রমাণ নেই। হাসপাতালের মর্গে নেওয়ার পর কেন ডাকা হলো। এখানে এসে দেখি মরদেহে বরফ দেওয়া আত্মহত্যার কোন নমুনা নেই। মারা যাওয়ার পর কি আরও ২-৩ ঘণ্টা মরদেহ রাখা যেতো না। কেন বরফ দেওয়া হলো। এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই আমিনুর রহমান। তিনি বলেন, বিষয়টি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসা না পর্যন্ত কোন মতামত দেয়া যাবে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কি রিপোর্ট দেন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।



