স্থানীয় সংবাদ

মহা-দুর্নীতিগ্রস্থ বাগেরহাট পৌর সভার অনিয়ম নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাট প্রতিনিধি : জেলা কেন্দ্রিক বিগত সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বাগেরহাট পৌরসভার প্রকাশ্য -অনিয়ম ও দুর্নীতি। দুর্নীতির মামলায় দুদকের চার্জশীটভুক্ত আসামীকে দলীয় মনোয়ন দিয়ে বাগেরহাটে আওয়ামী লীগকে জন বিচ্ছিন্ন করাসহ পৌরসভার সাধারন নাগরিকদের দীর্ঘ বছর ধরে সেবা বঞ্চিত করা হয়েছে। মনোনয়ন প্রদানকারীদের ভয়ে বিগত সময়ে কেহ মুখ খুলতে সাহস না পেলেও বর্তমানে সব শ্রেনী পেশার মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাট পৌরসভার নাগরিকদের ব্যানারে মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে পৌরসভার অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন পৌর নাগরিক পক্ষে সংবাদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শেখ মাইনুল ইসলাম মোস্তফা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয় দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বাগেরহাট এর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের শৃংঙ্খলাহীনতা, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতির মধ্যেৎসব চলে আসছিলো। বাংলাদেশের ৫ আগস্ট এ রক্তের গ্রোতের মধ্য দিয়ে সম্পদ ও জীবন বিপন্নের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তন প্রত্যাশিত ছিলো বাগেরহাটের কোন প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানের মধ্যে সে পরিবর্তন সম্পূর্ণরুপে অনুপস্থিত। বাগেরহাট পৌরসভায় আমরা কি দেখতে পচ্ছি পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিয়মিত, অপ্রতুল, দুর্গন্ধযুক্ত তেলাপোকা, ইঁদুর মরা পানি নিরুপায় হয়ে নাগরিকগণকে ব্যবহার করতে হচ্ছে। দিনে ২ বার পানি পাওয়ার কথা অথচ একবার পাচ্ছি। আবার অনেক সময় একবার ও পাচ্ছি না। বিলও বেশি। শুধু পানি সমস্যা নয়, রাস্তা-ঘাট বিষয়ে শহরের এমন কোন রাস্তা নেই যেখানে কোন মানুষ সুস্থ্য ও স্বাভাবিক চলাচল করতে পারছে। শহরের রাস্তা-ঘাট দেখে মনে হবে যেন যুদ্ধ বিদ্ধস্থ কোন শহর। যে শহরে যেন কোন মানুষ নেই। আছে কিছু যুদ্ধাহত মানুষ। বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙ্গে রড নিয়ে যাচ্ছে। সোলার লাইটগুলো ল্যাম্পপোস্ট থেকে খুলে নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তাগুলো কিছুদিন আগে সংস্কার হলেও সেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গর্ত হয়ে গেছে। খোয়া উঠে যেতে দেখা যাচ্ছে। জেলা সদর হাসপাতাল সড়কটিও বেহাল। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাগত বিষয়েও মহা অব্যবস্থা বিরাজমান। শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলা স্বাভাবিক রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। পৌরসভায় ১০০ জন সুইপার আছে। তাদের মধ্যে বেশ কিছু নারী। এদের অনেকের শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল। তাদের ময়লা ফেলার কোন আধুনিক উপকরণ নেই। এমনকি কোন ট্রেনিংও নেই। তারা এক ঘন্টা কাজ করে। জলাবদ্ধতা বিষয়ে- শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বৃটিশ আমলে বা তারো পূর্ব থেকে শহরকে জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখার জন্য অনেকগুলো খাল বিদ্যমান ছিলো। দীর্ঘ অব্যবস্থায় সে খালগুলো পানি সরবরাহ করতে পারছেনা,প্রভাবশালীদের দখল ও ময়লা ফেলে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে এ কারণে শহরের রাস্তা-ঘাট, বাড়ি-ঘর, বাগান, ক্ষেত জলমগ্ন হয়ে থাকা যেন অনিবার্য হয়ে পড়ছে। পৌরসভা থেকে জলমগ্নতাদুরীকরণের কোন সময়োপযোগি উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা। নিয়মিতভাবে যদি সুইপার দিয়ে পরিষ্কার করা হতো তাহলে জনজীবনে এতো দূর্ভোগ হতোনা। বাগেরহাট পৌরসভার অনাচারের মধ্যে সুইপার নিয়োগ অনাচারও উল্লেখযোগ্য। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মোস্তাহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা শেখ শাহেদ আলী রবি, ব্যবসায়ী ফারুখ হোসেন বাপপীসহ শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button