যশোর পৌরসভা এলাকায় কুকুরের প্রজননে বন্ধ্যাত্বের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া খোঁজা হচ্ছে

# যশোর পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান #
মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক বর্তমানে যশোর পৌরসভার প্রশাসক দায়িত্বে নিয়োজিত মোঃ রফিকুল হাসান বলেছেন,কুকুর নিধন হাইকোর্টে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষক আইনে কুকুর নিধন করা যাবেনা। তবে যশোরে একজন সরকারী কর্মকর্তাকে যে কুকুর কামড় দিয়েছে সেটি পাগলা কুকুর। কুকুর নিধনে হাইকোর্টে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এর প্রজনন প্রক্রিয়া অর্থাৎ বন্ধ্যাত্বের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া খোঁজা হচ্ছে। তাছাড়া, প্রাণী সম্পদ বিভাগের সাথে আলাপ আলোচনা ও একটি এনজিও যারা ইতিপূর্বে কুকুরের বিষয় নিয়ে যশোর পৌরসভায় কাজ করেছে তাদের সন্ধান করা হচ্ছে। রোববার ৩১ আগষ্ট বিকালে যশোর পৌরসভা কার্যালয়ে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকালে তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।
রফিকুল হাসান আরো বলেন, আমরা যারা সরকারী কর্মকর্তা শহরের বিভিন্ন কর্মকান্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে গাড়ী ব্যবহার করে থাকি। যার ফলে যশোর পৌরসভা ও আশপাশ এলাকায় বেওয়ারিশ (মালিক বিহীন) কুকুরের আক্রমন ও উৎপাতের শিকার হতে হয়না কিংবা দেখতে পারিনা। যারা পথচারী ও পায়ে হেঁটে এই শহরে চলাফেরা করে তাদের জন্য অনিরাপধ। এটি তিনি অকোপটে স্বীকার করেছেন। তারপরও তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন,কুকুরের আক্রমনসহ বিভিন্ন সংবাদ খবরের কাগজে লিখে পৌরসভার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষন করেন। এ প্রতিবেদক সম্প্রতি যশোর একজন সরকারী কর্মকর্তাকে তার দপ্তরের আঙ্গিনায় হঠাৎ একটি কুকুর আক্রমন করায় তিনি আহত হন। দ্রুত তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি কুকুরে কামড়ের বিষয়টি পৌরসভার প্রশাসককে পরের দিন বিকালে বিষয়টি তার মুঠোফোনে জানানোর পর এখনও পর্যন্ত বেওয়ারিশ কুকুরের বিরুদ্ধে যশোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে শোনা গেছে। যে কুকুরটি ওই কর্মকর্তাকে আক্রমণ করেছে সেটি পাগলা কুকুর। লোক পাঠানো হয়েছিল তা পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন সূত্রগুলো বলেছেন,যশোর পৌরসভার অধীনে কত সংখ্যক মালিক বিহীন ( বেওয়ারিশ ) কুকুর রয়েছে সে ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে পারছেনা। তবে শহরের বিভিন্ন মোড়ে ও অলিগলির সড়ক গুলোতে মালিক বিহীন কুকুর দেখা যায়। যা হিং¤্র প্রতিকৃতির। যশোর শহরের বিভিন্ন সড়ক জুড়ে কুকুর শুয়ে থাকে। পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হয়। মাঝে মধ্যে শোনা যায়,হঠাৎ কুকুর আক্রমন করে বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ শিশু পথচারীদেরকে আহত করে। সাধারণ শীতকালে কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে প্রতিষেধক হিসেবে ইনজেকশন দিতে হয়। চিকিৎসকগন বলেছেন,কুকুর কামড়ালে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব,সাধারণ ২৪ ঘন্টার মধ্যে বা দ্রুততার সাথে টিকা নেওয়া উচিত,কারণ জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিলে তা মারাত্মক হতে পারে। দ্রুততার সাথে ক্ষতের স্থানটি সাবান ও পানি দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ধরে ধুয়ে নেওয়া এবং অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। অপরদিকে,ভাদ্র মাসের অর্ধেক পেরিয়ে আগামী মাস অর্থাৎ আশি^ণ মাসে কুকুরের প্রজনন শুরু হয়। যা চলে কার্ত্তিক,অগ্রাহায়ন,পৌষ ও মাঘ। কুকুরের প্রজননের মাসে কুকুর হিং¯্র প্রকৃতির হয়ে উঠে। বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রহীনভাবে চলাফেরা করে। যাকে তাকে দেখলে হঠাৎ আক্রমন শুরু করে। যশোর পৌরসভার অধীনে কুকুরের উপদ্রব্য চরম আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিভিন্ন পেশার মানুষ জানিয়েছেন। এখন থেকে কুকুরের প্রজনন নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে তা বেড়ে দ্বিগুনে দাঁড়াবে।



