স্থানীয় সংবাদ

শ্রমিক বান্ধব ও ইনসাফ ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গঠনে শ্রমিক ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান

# খালিশপুর থানা ইলেকট্রিশিয়ান শ্রমিক ইউনিয়নের প্রীতি সমাবেশ #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সকল গৌরবময় অর্জনে শ্রমিক জনতার রয়েছে বিশাল অবদান। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শ্রমিকরাই সম্মুখযুদ্ধ করেছে। জীবন দিয়েছে। বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দুই শতাধিক শ্রমিক শাহাদাৎবরণ করেছে। শ্রমিক-মেহনতি মানুষের জীবন, রক্ত ও ঘামের উপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। অতএব, শ্রমিকদের নাগরিক অধিকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পূরণ করতে হবে। শ্রমিকদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষার বন্দোবস্ত করতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হতে হবে শ্রমিক বান্ধব। শ্রমিকদের যথাযথ অধিকার প্রদানের মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আর শ্রমিক বান্ধব ও ইনসাফ ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গঠনে শ্রমিক ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনা মহানগরীর শিল্পাঞ্চল খালিশপুর বিআইডিসি রোডস্থ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে খালিশপুর থানা ইলেকট্রিশিয়ান শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং খুলনা-২৩৬৬) উদ্যোগে শ্রমিকদের সম্মানে প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
ইলেকট্রিশিয়ান শ্রমিক ইউনিয়ন এর সভাপতি বদরুর রশিদ মিন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মু. নাসরুল্লাহর পরিচালনায় প্রীতি সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক খান গোলাম রসুল, টিম সদস্য আজিজুর রহমান, মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, সহ-সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান, খালিশপুর থানা সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বুলবুল কবির, আনিসুর রহমান মন্টু, শহিদুল ইসলাম, আসাদুল্লাহ, সাঈদুর রহমান, ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ, কামরুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, হাবিবুর রহমান, তাজ মোহাম্মদ, আল মামুন হোসেন, জলিলুর রহমান, আজিজুল ইসলাম, জাকির হাসান, আব্দুল মান্নান, ইমরান হোসেন, আনোয়ার হোসেন, হায়দার আলী, ওমর আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মহানগরী আমীর বলেন, আমরা শ্রমিক-মালিক ভেদাভেদে বিশ্বাসী নই। আমরা শ্রমিক-মালিক সংঘাত চাই না। কিন্তু তাই বলে শ্রমিকদের শোষণ করা হবে, সেটা আমরা হতে দেবো না। শ্রমিক-মালিক ভাই ভাই হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের নানাপ্রান্তে শ্রমিকরা আজও নিস্পেষিত-নির্যাতিত হচ্ছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকরা অবাধে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার থেকে বঞ্চিত। আজকে দেশ নতুন করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। মানুষ মুক্তভাবে নিঃস্বাস নিচ্ছে। বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। এই সময়ে এসে শ্রমিকরা যেন তাদের অধিকার আদায়ের সংগঠন অবাধভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, শ্রম অধিদপ্তরের কর্তাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের একটাই শপথ, আমরা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে এগিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ। যেখানেই শ্রমিকরা নির্যাতিত হবে, সেখানেই শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন তার প্রতিকার করতে হাজির হয়ে যাবে। শ্রমিক জনতাকে সাথে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button