স্থানীয় সংবাদ

মা বিড়াল ‘সন্দুরী’ অবশেষে উদ্ধার!

# খাবারের সন্ধ্যানে গিয়ে ৪ তলা ভবণে সানসেটে আটকা পড়ে বিড়ালটি #
# কেসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে বিড়ালটিতে উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা #

মো. আশিকুর রহমান : অবিনশ্বর ধরিত্রীতে; ¯্রষ্টার নীলার বহিঃপ্রকাশ জীব। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষ অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় বেশি জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেকের অধিকারী। মানুষের আসল পরিচয় তাঁর মনুষ্যতে, এই মনুষ্যত্বই মানুষের হিরণময় শিখা, যা মানুষের মানবতা, বিবেক ও চেতনাবোধকে জাগ্রত করে। মানুষ যদি অন্য প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা ও মানবতা না দেখায়, তাহলে কখনও ¯্রষ্টার ভালোবাসা লাভ করতে পারবে না। মনুষ্যত্বের বহিঃপ্রকাশ হলো মানবিক চেতনাবোধ, যা মানুষকে মহত্ত্ব করে তোলে। ফলশ্রুতিতে সকল জীব জগতে বাঁচার এক চিলতে শীতলতার স্পর্শ অনুভব করে। সময়ের ব্যবধানে, গ্রাম-শহরের অঞ্চলগুলো বিশ্বায়নের ফলে পরিবর্তীত হচ্ছে। কঠিন বাস্তবতার মধ্যে দিয়ে ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নিরীহ অবোলা প্রাণী গুলো খাদ্যের অভাবে নিরবে কেঁদে ফিরে যায় তাদের আশ্রয়স্থলে! আশ্রয়হীন জীবগুলোর মানুষের মত কষ্ট আছে, ক্ষুধা আছে, কিন্তু পূরণের অন্ন নেই! বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের পুরাতন বিল্ডিংয়ের পিছনের সানসেট (কার্ণিশ) থেকে মা বিড়াল ‘সুন্দরীকে’ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করেন। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে খাবারের সন্ধ্যানে এসে কেসিসির পুরাতন ৪ তলা ভবনের সানসেটে (কার্ণিশ) আটকে পড়ে বিড়ালটি। সম্প্রতি কেসিসির পাশর্^বর্তী ইউনাইটেড ক্লাবে দু’টি ফুটফুটে বাচ্চা জন্ম দেওয়া মা বিড়াল সুন্দরীকে উদ্ধার করে জীব প্রেমের নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলো কেসিসি। কেসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ও খুলনা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের আন্তরিতায় অবশেষে মা বিড়াল ‘সুন্দরী’ উদ্ধার হয়ে নিরাপদে তার নবজাতক বাচ্চাদের কাছে ফিরে গেছে। বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের উপস্থিতিতে বিড়াল উদ্ধারের ঘটনাটি দেখতে অনেকেই সেখানে ভীড় জমায়।
সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে কেসিসির কয়েকজন স্টাফ কেসিসির নতুন বিল্ডিংয়ের সাথে পুরাতন বিল্ডিংয়ের সংযোগ সেতুর ছাদের উপর বসে থাকতে দেখে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। তাৎক্ষনিক প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ স্টাফরা বিড়ালটিকে উদ্ধারের পরিকল্পনা করেন। এসময় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে মা বিড়ালটি সেতুর ছাদের উপর হতে পাশ^বর্তী পুরাতন ভবণের পিছনের ৪ তলার কার্নিশের (সানসেটের) উপর গিয়ে আটকা পড়ে। সংশ্লিস্টরা মা বিড়ালটিকে উদ্ধারে মই ব্যবহার করেও কোনো সমাধান করতে না পেরে, অবশেষে খুলনা বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কন্ট্রোল রুম ফোন করেন। বিড়ালটিকে উদ্ধারে তাৎক্ষনিক ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম কেসিসিতে এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। লম্বা মই ব্যবহার করে উদ্ধার কর্মীরা আটকে পড়া মা বিড়ালটিকে উদ্ধার করে অবমুক্ত করেন। অবমুক্ত হয়েই বিড়ালটি তার ফুটফুটে বাচ্চাদের খোঁজে সোজা ইউনাইটেড ক্লাবে দিকে দৌঁড় দেয়। কেসিসির পাশর্^বর্তী বাসা-বাড়ীর প্রতিবেশি সূত্রে জানা গেছে, বিড়ালটি ওই বিল্ডিংয়ের সেতু ও কার্ণিশে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে আটকে পড়ে। সারা রাত বিড়ালটি ডাকাডাকি করে, রৌদ-বৃষ্টিতে ভিজে বিড়ালটি দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় বিড়ালটিতে খাবার খেতে দেয়। অবশেষে কেসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আন্তরিকতায় মা বিড়ালটি উদ্ধার হয়ে নিরাপদে তার আশ্রয়স্থলে নবজাতক বাচ্চাদের কাছে ফিরে গেছে। ধারনা করা হচ্ছে, খাবারের সন্ধ্যানে বিড়ালটি কেসিসির নতুন বিল্ডিংয়ের সাথে পুরাতন বিল্ডিংয়ের সংযোগ সেতুর ছাদ উপর হতে পুরাতন ভবনের কর্ণিশের (সানসেটের) উপর আটকা পড়ে। বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের উপস্থিতিতে বিড়াল উদ্ধারের ঘটনাটি দেখতে অনেকেই সেখানে ভীড় জমায়।
কেসিসির পাশ^বর্তী প্রতিবেশি জানান, গতকাল সারা রাত বিড়ালটি আটকা পড়ে ডাকাডাকি করতে থাকে। বিড়ালটি প্রায় আশপাশে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে কেসিসির হস্তক্ষেপে বিড়ালটিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রাণীদের প্রতি আমাদের সহনুভূতিশীল হওয়া উচিৎ, এটা তার বাস্তব উদাহরণ।
কেসিসির লাইসেন্স ইন্সপেক্টর নূরুল আলম বাবু জানান, সকালে অফিসে এসে আমাদের নতুন ভবন সাথে পুরাতন ভবনের সেতুর সামনে ভীড় দেখে এগিয়ে যায়। গিয়ে দেখি একটি মা বিড়াল, মনে হচ্ছে আটকা পড়েছে। লোকজনের আচ পেয়ে সে দৌড়ে গেয়ে পুরাতন বিল্ডিংয়ের কার্নিশের উপর গিয়ে বসে, কিন্তু নিচে নামার উপায় পাইনা। অবশেষে আমাদের স্যার ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিলে তারা এসে বিড়ালটিকে উদ্ধার করেন। আমাদের পরিবারের প্রতি যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি পশুপাখির প্রতিও দায়িত্ব আছে। প্রশাসনিক কর্মকর্র্তা স্যারের হস্তক্ষেপে বিড়ালটি উদ্ধার হয়েছে, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর।
এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সে কর্মরত মো. মাজেদুল ইসলাম (লিডার) জানান, কেসিসি হতে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে বিড়াল উদ্ধারের বিষয়ে অবগত হয়। ওই খবরে টিম নিয়ে কেসিসিতে পৌচ্ছায়। আমার নেতৃত্বে সেখানকার ৪ তলা ভবনের কার্ণিশ (সানসেটে) লম্বা মই ব্যবহার করে বিড়ালটিকে উদ্ধার করি।
এ বিষয়ে কেসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশিদ জানান, বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেসিসির এক স্টাফের মাধ্যমে মা বিড়াল সন্দুরী আটকে পড়ার বিষয়টি জানতে পারি। তাকে উদ্ধারে নিজেরা চেষ্টা করি। কিন্তু উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়া ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমে ফোন দেয়। ফায়ার কর্মীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসে লম্বা মই ব্যবহার করে বিড়ালটিকে উদ্ধার করে। বিড়াল আমাদের পাশর্^বর্তী ইউনাইটেড ক্লাবে থাকে, সেখানে সম্প্রতি দুটি বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। প্রাণীর প্রতি আমাদের সহনুভূতিশীল ও দয়া দেখানো উচিৎ। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আন্তরিকতায় মা বিড়াল সুন্দরী উদ্ধার হয়ে নিরাপদে তার নবজাতক বাচ্চাদের কাছে ফিরে গেছে, এটাই আমাদের বড় পাওয়া।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button