স্থানীয় সংবাদ

রূপসায় সন্ত্রাসীদের প্রথম টার্গেটে প্রাণে বেঁচে গেলেও দ্বিতীয় টার্গেটে হত্যা

# সন্ত্রাসীদের দাপটে অশান্ত রূপসার জনপদ #

স্টাফ রিপোর্টর : খুলনার রূপসায় বি-কোম্পানীর ক্যাডার মানিক ৯ মাস আগে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণ রক্ষা পেলেও দ্বিতীয় টার্গেট আর মিস হয়নি সন্ত্রাসীদের।
অবশেষে ইমরান হোসেন মানিক বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে খুলনা মোংলা মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী জয়পুর একটেল টাওয়ারের পেছনে মাস্টার বাড়ির গেটের সন্নিকটে তাকে গুলি করে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত মানিক উপজেলার চর রূপসা এলাকার বেলায়েত হোসেনের ছেলে। সে সন্ত্রাসী বাহিনী বি-কোম্পানির ক্যাডার ছিল বলে পুলিশে জানিয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে রাতেই ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার পূর্বে মানিক পূর্ব রূপসা থেকে ইলাইপুরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় তাকে একা পেয়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা খুলনা-মোংলা মহাসড়ক থেকে ধরে একটেল টাওয়ারের পার্শ্ববর্তী রাস্তার ভিতরে নিয়ে যায়। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই তার মাথা ও বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মানিকের মৃত্যু হয়। সন্ত্রাসীরা মানিকের মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আশে পাশের বাড়ির লোকজন গুলির শব্দ শুনলেও ভয়ে কেউ ঘর থেকে বের হয়নি। এমনটা জানিয়েছে পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানায়, নিহত মানিক সন্ত্রাসী বাহিনী বি-কোম্পানির ক্যাডার ছিল। মানিকের নেতৃত্বে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদকের ব্যবসা চলতো। মাদক, চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী গ্রুপের অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ আধিপত্ত বিস্তারের লক্ষ্যে মানিক খুন হয়।
নিহত মানিকের বড় ভাই মাসুদ জানায়, এর আগে আমার ভাইকে যখন গুলি করেছিল তখন পুলিশ আমাকে থানায় ধরে নিয়ে জোর করে মামলা করায়। আমি তখন বার বার বলেছিলাম মামলা করলে ওরা আমাদের বাঁচতে দেবে না। অবশেষে তাই ঘটলো। এ ব্যাপারে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, নিহত মানিক সন্ত্রাসী বাহিনী বি-কোম্পানির ক্যাডার ছিল। হত্যাকান্ডেরর সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর ৬ ডিসেম্বর বিকেলে পূর্ব রূপসা বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কস্থ মডার্ণ সী ফুডস এর সন্নিকটে সন্ত্রাসীরা মানিককে লক্ষ্য করে গুলি করে। কিন্তু গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পায়ে লাগায় মানিক ওইসময় প্রাণে বেঁচে যায়।

গত ৩১ আগস্ট গভীর রাতে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কে ঘের ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাগমারা এলাকায় রুবেলকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় রুবেল প্রাণে বেঁচে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলির খোসা উদ্ধার করে। গত ১২ জুন রাতে রূপসা কলেজের সন্নিকটে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী বনি আমিনকে গুলি করে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এর আগে গেলো বছর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দুইদিন পর পূর্ব রূপসা পেট্রোল পাম্পের সন্নিকটে তালিমপুর এলাকার রিয়াজুল নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত থাকায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button