স্থানীয় সংবাদ

খালিশপুরে যুবদল নেতা হত্যা চেষ্টায় মামলা দায়ের

# বিএনপি-যুবদল-আ’লীগ নেতাসহ আসামী ১৮ জন #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নগরীর খালিশপুর ১১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক আহবায়ক মাসুদ হোসেন (৫০) গুরুতর জখম হয়েছেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা খালিশপুর নিউ মার্কেট রোডে তাকে কুপিয়ে জখম করে। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি খুলনায় ফিরেছেন। এদিকে এ ঘটনার পর আহতের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে খালিশপুর থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তা রেকর্ড করা নিয়ে গড়িমশি করে। অবশেষে ভিকটিম পরিবার আদালদের শরনাপন্ন হয়। শুনানী শেষে আ্দালত অভিযোগটি হুবাহু থানায় রেকর্ডভুক্ত করার জন্য বলা হয়। সে মতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর খালিশপুর থানা পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেন। মামলায় ১৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামীরা হলো খালিশপুর থানা যুবদলের সভাপতি প্রার্থী নাজমুল হোসেন বাবু ওরফে গুটি বাবু (৪৮), তিনি দৌলতপুর কারিগরপাড়ার কেশবলাল রোডের বাসিন্দা মোঃ সেলিমের ছেলে। তৈয়েবা কলোনীর বাসা নং-২৮ রোড নং-২৪৯-এর বাসিন্দা মৃত আব্দুল হাই -এর ছেলে বিএনপি নেতা মোঃ আরিফুর রহমান আরিফ (৪৫), হাউজিং পুরাতন কলোনীর আর/৬৯ রোড নং-১৪৫-এর বাসিন্দা মৃত আঃ মান্নানের ছেলে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী সন্ত্রাসী মোঃ নজরুল ইসলাম (৩৮) ও তার ভাই একাধিক মামলার আসামী সন্ত্রাসী মোঃ মনিরুল ইসলাম মন্ডল (৩৫), নিউ মার্কেটের সাটার রুমের বাসিন্দা আনিচের ছেলে একাধিক মামলার আসামী বিল্লাল ওরফে কানা বিল্লাল (২৮), সেন্ট্রাল ব্লক বাড়ী নং-২২ রোড নং-১৫৪-এর বাসিন্দা মোঃ হাফিজের ছেলে চিহ্নিত চোর উজ্জ্বল (৩০), হাউজিং পুরাতন কলোনীর বাসা নং-আর ৪০-এর বাসিন্দা ক্রসফায়ারে নিহত সজল ওরফে মোছে সজলের ছেলে সজিব (৩৫), ১১নং ওয়ার্ড আ’লীগের যুগ্ম সাঃ সম্পাদক মিনহাজুর রহমান উজ্জ্বল ওরফে মেছো উজ্জ্বল (৫০), মৃত ছপিন বিহারীর ছেলে যুবলীগ নেতা সনু ওরফে বিহারী সনু (৪০), টিএন্ডটি মোড় সাবান ফ্যাক্টরীর পাশের বাসিন্দা মাহাতাব সানার ছেলে যুবলীগ নেতা মোঃ ফারুক (৪০)সহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন। ভিকটিম মাসুদ খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা মৃতঃ আব্দুল মান্নান হাওলাদারের ছেলে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, “বাদী একজন সহজ সরল আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি। পক্ষান্তরে আসামীগন দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে এলাকার মাদক ব্যবসায়, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, উৎশৃঙ্খল ও আইন শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ করে আসতে থাকে। বাদীর ছোট ভাই (ভিকটিম) মোঃ মাসুদ হোসেন (৪০) একজন ব্যবসায়ী ও ১১ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক। তিনি বিভিন্ন সময়ে আসামীদের মাদক ব্যবসায়ে বাধা প্রদান করেন। এ কারণে আসামীগন বিভিন্ন সময়ে বাদীর ভাই ভিকটিমকে খুন জখমের হুমকী দেয়। এমন কি ভিকটিমকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বাদী ও তার ভাই ভিকটিম মোঃ মাসুদ হোসেন গত ১২সেপ্টেম্বর শ্রমিকদলের প্রোগ্রাম শেষে খালিশপুর থানাধীন নিউমার্কেট বাজার সংলগ্ন কলেজিয়েট বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের রাস্তা হয়ে মোটর সাইকেলযোগে বাড়িতে ফেরার পথে অনুমান রাত ৯টার সময়ে খালিশপুর থানাধীন নিউমার্কেট বাজারস্থ জনৈক জাহাঙ্গীরের মুরগীর দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌছানো মাত্র বাদীর ভাইকে খুন করার উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক কমান্ড স্টাইলে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১নং আসামীর নাজমুল হোসেন বাবু ওরফে গুটি বাবুর নেতৃত্বে সকল আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন আসামী বাদীর ভাইয়ের মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে এবং বাদী ও তার ভাই কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই তাকে চারদিক হতে ঘিরে ফেলে। ১নং আসামী বাদীর ভাইকে বলে তুই মাদক ব্যবসা বাধা দেওয়ার কে? একথা বলেই ১নং আসামী হুকুম দিয়ে বলে শালাকে জীবনে শেষ করে দে। তখন আসামীরা বাদীকে টেনে হিচড়ে পাশে নিয়ে যায়। তখন ১ নং আসামী তার হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে বাদীর ভাই মাসুদ হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় কোপ মারলে উক্ত কোপ মাথার মাঝ বরাবর লেগে মারাত্বক রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হয়। তখন ২নং আসামী তার হাতে থাকা ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারলে উক্ত কোপ তার মাথার বাম পাশে লেগে মাটিতে পড়ে গেলে ৩নং আসামী চাপাতি দিয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারলে উক্ত কোপ তার বাম কানের মাঝ বরাবর লেগে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। তখন ৪নং আসামী তার হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা বরাবর কোপ মারতে গেলে ভিকটিম ডান হাত দিয়ে ঠেকালে উক্ত কোপ তাঁর ডান হাতের পাতার উপর লেগে মারত্মক কাটা জখম হয় (৬ টি সেলাই লাগে), এ সময় ৫নং আসামী তার হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা বরাবর কোপ মারতে গেলে ভিকটিম ডান হাত দিয়ে ঠেকালে উক্ত কোপ তার ডান হাতের বাহুর উপর লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। তখন ৬নং আসামী তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ভিকটিমের মাথায় আঘাত করতে গেলে ভিকটিম ডান হাত দিয়ে প্রাণ বাচানোর চেষ্টা করলে উক্ত আঘাত তার ডান হাতের বাহুতে লেগে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হন। তখন ৭নং আসামী তার হাতে থাকা দা দিয়ে ভিকটিমকে কোপ মারলে ভিকটিম জীবন বাঁচানোর জন্য হাত পা জড়ো করলে উক্ত কোপ তার ডান পায়ের হাটুর নীচে লেগে মারাত্মক জখম হয়। এ সময় ৮নং আসামী ভিকটিমের আরো কোপ মারলে উক্ত কোপ ভিকটিমের ডান পায়ের হাটুর নিচে লেগে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হন। তখন ৯নং আসামী তার হাতে থাকা সাবল দিয়ে স্বজোরে আঘাত করলে উক্ত আঘাত ভিকটিমের বাম হাটুতে লেগে হাড় ভেঙ্গে মারাত্বক জখম হন। এ সময় ১০নং আসামী তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ভিকটিমকে আঘাত করলে উক্ত আঘাত ভিকটিমের ডান পায়ের হাটুতে লেগে হাড় ভেঙ্গে যায়। এ সময় অজ্ঞাতনামা আসামীরা তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কোপাতে ও পেটাতে থাকে। আসামীদের তান্ডবে বাদী ও ভিকটিমের চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে আসামীগন ভিকটিমকে মৃত ভেবে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন বাদীর ভাইকে মারাত্মক আহত অবস্থায় খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করে কিন্তু ভিকটিমের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে ভিকটিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনবার্সন প্রতিষ্ঠান এ ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় বাদী খালিশপুর থানায় মামলা করতে গেলে আসামীগন প্রভাবশালী হওয়ায় থানা কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপন করে সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করলে বাদী বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বাদী জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মামলার প্রধান আসামীসহ অনেককে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামালকে জানিয়েছি। তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না বলে তিনি জানান। তবে একটি সূত্র জানায়, ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাজারে মহড়া দেয়া যুবক সাবু আহত যুবদল নেতা মাসুদের লোক। এছাড়া বাজার কমিটির নেতা উজ্জলের লোক হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী নজরুল-মন্ডল। বাজারের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে নজরুল-মন্ডল বাহিনীকে ব্যবহার করে মাসুদকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। এই নজরুলের সাথে ১১নং ওয়ার্ড বিএনপির শীর্ষ নেতাদের একটি অংশের ভাল যোগাযোগ রয়েছে। তারা ওয়ার্ডে একক আধিপত্য ধরে রাখতে বিএনপির অপর গ্রুপের যুব নেতা মাসুদকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে এ পরিকল্পনা হাতে নেয় বলে কেউ কেউ মনে করছেন। অন্য একটি সূত্র জানায়, আ’লীগ আমলে নাদিম হত্যা হয়। ওই নজরুল একাধিবার মাসুদকে মারার জন্য ধাওয়া করে। তারই ধারাবাহিকতার জের ধরে গত বছর ৬ আগস্ট টিএন্ডটি গেটে নজরুলকে দেখতে পায় মাসুদ। এ সময় তারা নজরুলকে ধাওয়া করে। এই নজরুল বাহিনীর হামলায় শিকার হয়ে বিগত দিনে পঙ্গু হয়েছে শিক্ষক সবুজ ও নজর। প্লাটিনাম মিল কলোনীর মধ্যে খুন হয় বাপ্পী নামের একজন স্কুল ছাত্র। তাকেও এরা কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় নজরুলের যাবজ্জীবন সাজা হয়। পরে সে আপিলে বের হয়ে আসে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button