স্থানীয় সংবাদ

আজ থেকে ‘ইলিশ’ শিকারে নিষেধাজ্ঞা

# ২২ দিন বন্ধ থাকবে বহনকারী পরিবহন, কেনাবেচা, মজুত ও বিনিময় # নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের খাদ্য সহয়তা দেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ #

মোঃ আশিকুর রহমান ঃ জাতীয় মাছ ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে আজ শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১২ টার পর থেকে ২২ দিন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা করেছে সরকার। এই সময়ে শুধু মাছ ধরা নয়, সারাদেশে ইলিশ আরোহন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুত ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে। মৎস সংরক্ষন আইন ১৯৯০ অনুযারী এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের জেল-জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুক্রবার রাত ১২ টার পর থেকে আগামী ২৫ অক্টোবর ২২ দিন সারাদেশের মতো খুলনা বিভাগের ৪টি জেলা খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল ও কুষ্টিয়ার নদী-বন্দরে ইলিশ ধরা হতে বিরত থাকতে জেলেদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মা ইলিশের প্রজননের এই প্রধান সময়ে বন্ধ থাকবে ইলিশের বহনকারী পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও বিনিময়। নিষিদ্ধ এই সময়ে সারাদেশের মতো খুলনার কিছু উপজেলার জেলেদেরও খাদ্য সহয়তা করা হবে। খুলনা বিভাগীয় মৎস অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে শুক্রবার রাত ১২ টার পর হতে। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার আদেশে খুলনা বিভাগের অধিন্যস্ত চারটি জেলা খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল ও কুষ্টিয়ার এলাকায় মাইকিং, ফেস্টুন, ব্যানার টানানো হয়েছে, বিতরণ লিফলেট। বিশেষ করে বাজার এলাকায় এ সংবাদ প্রচারে ব্যাপক প্রচারনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সহয়তা করবে। খুলনা বিভাগের ৪ জেলার নদী সমূহে অভিযান চলবে এবং পাশাপাশি বাকি জেলার সমূহের ইলিশের বহনকারী পরিবহন, কেনাবেচা, মজুত ও বিনিময় বাজার এলাকায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইলিশ মাছ বিক্রেতা বারেক হাওলাদার জানান, শনিবার থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। প্রতি বছরই ওই ২২ দিন ইলিশ বেচাকেনা বন্ধ রাখি। যেহেতু ওই দিনগুলিতে ইলিশ বিক্রি বন্ধ থাকে। ওই সময়ে দেশীয় ও সামুদ্রিক মাছ বিক্রি করবো। তবে নিষেধাজ্ঞা ওঠানোর আগে কোনো অবস্থাতেই এ আদেশ অমান্য করবো না। এ বিষয়ে সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র খুলনার সাঃ সম্পাদক এড. কুদরত্ ই খুদা জানান, ইলিশ আমাদের প্রাকৃতিক জাতীয় সম্পদ, এই সম্পদ রক্ষার্থে আজ শুক্রবার মধ্যে রাত হতে ২২দিন ইলিশ মাছ ধরা বন্ধের ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। এসময় বহনকারী পরিবহন, কেনাবেচা, মজুত ও বিনিময় থেকে সকলকে দূরে থাকা উচিৎ। আইন অমান্যকারীদের ব্যাপারে কঠোর গ্রহন করা উচিৎ। পাশাপাশি, দেশে ইলিশ শিকার বন্ধ হলেও পাশ^বর্তী দেশ গুলো যেন শিকার কার্যক্রমে যুক্ত না হতে পারে, সেদিকে কোস্ট গার্ডেরও কঠোর নজরদারী রাখতে হবে। মা ইলিশের সঠিক প্রজনন হলে দেশ অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে বলে বিশ^াস করি। মৎস অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১২ টার পর থেকে ২২ দিন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা করা হয়েছে। এই সময়ে শুধু মাছ ধরা নয়, ইলিশ আরোহন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুত ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে। আইন অমান্য করলে অমান্যকারীদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ নিষেধাজ্ঞার সময়ে উক্ত জেলা সমূহের কিছু উপজেলার জেলেদের খাদ্য সহয়তা করা হবে। মা ইলিশের প্রজনন রক্ষার্থে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর কঠোর অভিযানসহ মনিটরিং করবে। অপরদিকে, গতকাল শুক্রবার ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনে নগরীর মাছ বাজারে ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। যেহেতু শনিবার থেকে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশের বিক্রি বন্ধ থাকবে, তাই অনেকেই আগ্রহ করে ইলিশ কিনতে এসেছে। তবে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন, বিক্রেতারা ইলিশের দাম বেশি হাঁকাচ্ছেন। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, শুক্রবার আড়ৎ সমূহে মাছ কম আসছে, দামও বেশি। পাইকারি বেশি দামে কেনা পড়লে, খুচরা কত দামে বিক্রি করবো। কিছু লাভ তো করতেই হবে। খুচরা ইলিশ মাছ বিক্রেতা মাসুম জানান, শনিবার থেকে ইলিশ ২২ দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। এ খবরে প্রতিবছর ক্রেতারা বাজারে ভীড় করে। গতকাল শুক্রবার পাইকারি বাজারে মাছের দাম বেশি ছিল এবং মাছও কম আসছে। যে দামের কেনা খরচ-খরচা বাদে সামান্য লাভে বিক্রি করি। নগরীর মাছ বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা মোঃ সোহেল রানা জানান, ২২ দিনের জন্য ইলিশ বিক্রি বন্ধ হচ্ছে। ভেবে ছিলাম গতকাল দুইটা মাছ কিনবো। ইলিশের গায়ে আগুন লেগেছে। ঝাটকা থেকে শুরু করে বড় মাছ, সবটার দামই বেশি । অবশেষে মাছ না কিনে ফিরে এলাম।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button