ইউনিয়ন ভুমি অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের মোল্লাহাটে উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন ভুমি অফিসার মালেক মোড়লের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ ও সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারি ও দালাল চক্রের দৌরাত্মে সেবা প্রার্থীরা রিতিমত অসহায়। উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষরিত বিভাগীয় কমিশনার (খুলনা) বরাবর লিখিত এক অভিযোগে জানা যায়, সরকারি, বে-সরকারি, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধি কেহই ছাড় পাচ্ছে না। সরকার র্নিধারীত ফি ১১০০ টাকা হলেও নামজারি করাতে সাধারনের গুনতে হচ্ছে ৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা (ভুক্তভোগী) সিরাজুল ইসলাম(৫২) শাকিরুল(৫০) তাইজুল ইসলাম(৬২) কালিম মোল্লা(৪২) নাদিম (৩৮) সহ ১০-১২ জন ইনকিলাব প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমরা সঠিকভাবে সেবা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির স্বীকার হচ্ছি। আমাদের সাথে প্রতারনা করা হচ্ছে। নামজারির জন্য ইউনিয়ন ভুমি অফিসার মালেক মোড়ল ৮-১০ হাজার টাকা দাবী করছেন, টাকা ছাড়া আবেদন করলে নানা রকম ভুল দেখিয়ে আবেদন খারিজের সুপারিশ করছেন। ফলে বাধ্য হয়ে নায়েবকে টাকা দিয়ে নামজারি করাতে হয়েছে। অফিসের পিওন থেকে কর্মকর্তা/কর্মচারি সকলে মিলেমিশে র্দুনীতির জাল বিছিয়ে রেখে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
তারা আরো বলেন, জমির খাজনা দিতে স্থানীয়রা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, খাজনা দিতে গেলে নায়েব সাহেব তার কম্পিউটার অপারেটরের (অস্থায়ী) কাছে যেতে বলেন। কম্পিউটার অপারেটর অনলাইনে ১৯৬২ সন থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মোটা অংকের টাকা বকেয়া দেখিয়ে দেন এবং খাজনা কমাতে ঘুষ দাবী করেন। ৫-১০ হাজার টাকা ঘুষ দিলে সর্বশেষ ৪-৫ বছরের টাকা বকেয়া আদায় করে অনলাইনে দাখিলা কেটে দেন।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে তদারকি এবং তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর শক্তিশালী অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তদন্তের উচ্চতর স্তর নিশ্চিত ও জনগনের আস্থা ফেরাতে ভুমি অফিসারকে সাময়িক বরখাস্তের দাবী জানানো হয়। তারা আরো বলেন অভিযোগ অকার্যকর হলে অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও মানবন্ধন কর্মসুচি ঘোষনা করা হবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার(ভুমি) সুস্মিতা সাহা জানান, আমরা একটি অভিযোগ পত্র পেয়েছি, অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু-পক্ষের শুনানি ও তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



