রূপালী ব্যাংকের বরখাস্তকৃত ম্যানেজার’র বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ রূপালী ব্যাংকের দুর্নীতিবাজ ম্যানেজার, অর্থলোপাটের দায়ে সাসপেন্ডকৃত ও কারাভোগকারী মোঃ বায়েজিদ মোল্লার চেক জালিয়াতি, মামলাবাজী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে রেহাই পেতে ভুক্তভোগী ঋণ গ্রহিতাদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১১ অক্টোবর ) বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ভুক্তভোগীদের পক্ষে রামপালের চাদপুর শংকর নগর নি/মা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেবশংকর বিশ্বাস। সংবাদ সম্মেলন শেষে তার শাস্তির দাবিতে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা।
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি জানান, বিভিন্ন অপকর্মের হোতা রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র (২য় বার সাময়িক বরখাস্ত) কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর চর মানিকদাহ এলাকার বাসিন্দা আকবর আলীর ছেলে মোঃ বায়েজিদ মোল্লা (রেজি, ইং ৯৯৫৫) ২০০০ সালে রূপালী ব্যাংকে যোগ দিয়ে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি খুলনার নতুন বাজার, রাজাপুর ও সদন শাখায় ম্যানেজার থাকা কালে বেশ কয়েকজন ঋণগ্রহীতার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। ঋণ দেওয়ার কথা বলে অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করিয়ে রাখতেন। এরপর কুষ্টিয়ায় বদলী হলে যাওয়ার সময় ঋণগ্রহীতাদের ঋণ ফাইল সুকৌশলে কুষ্টিয়ায় স্থানান্তর করেন। সেখানে এই সব ঋণ গ্রহীতার ডকুমেন্ট ব্যবহার করে সঞ্চয়ী হিসাব খুলে তাদের নামে পাঁচ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ উত্তোলন করেন। তিনি ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া কর্পোরেট শাখার এজিএম’র দায়িত্ব পালনের সময় ব্যাংক নীতিমালা অমান্য করে। অসংখ্যা গ্রাহকের নামে কোটি কোটি টাকা ঋণ প্রদানের অনিয়মে ২০১৬ সালে সাময়িক বরখাস্ত হন এবং পরবর্তিতে ফরিদপুর জোনাল অফিসের এজিএম হিসেবে বদলী হন।
তিনি আরও বলেন, ঋণ গ্রহীতাদের শত শত স্বাক্ষরিত চেক মর্টগেজ হিসেবে ব্যাংকের কাছে জমা ছিল। এই চেকগুলোকে হাতিয়ার করে তিনি গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে চেক ডিজঅনার মামলা দিয়ে হয়রানি করবেন বলে ভয় দেখান। ঋণ গ্রহীতারা অতি সাধারণ ও স্বল্প আয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিক। যারা বায়েজিদ মোল্লার অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগজ্ঞ, কুষ্টিয়া লালমনিরহাট, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় মামলাবাজির রোষানলে পড়েন। মামলাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এক মামলার বাদী অন্য মামলার সাক্ষী এবং স্বাক্ষী অন্য মামলার বাদী। অধিকাংশ বাদী ও স্বাক্ষী একে অপরকে এবং আসামীকে ও চেনেন না, মূলত তারা বায়েজিদের আত্মীয় বা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ গ্রাহক, যাদের চাপ দিয়ে মামলা করতে বাধ্য করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছে- লিলিয়া খাতুন, দেবশংকর বিশ্বাস, পিয়ার মন্ডল, এস.কে.এ হাসান, শাহাদাৎ হোসেন, সাদিয়া হোসেন, শক্তিপদ বসু, গোলাম রসুল, আসলাম সিকদার, চৌধুরী নূর উদ্দিন মোঃ সেলিম, মোতাহার হোসেন, দিবাকর বাওয়ালী, নীভা বাওয়ালী, শেখ আলমগির হোসেন, মনিরুজ্জামান, তৌহিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান, লাভলী সুলতানা, আল-আমীন শেখ, সালমা জামান, উদ্ভব মহন্ত, রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ সরোয়ার হোসেন, দিপংকর রায়, শ্যামল সিংহ রায়, মোঃ বারাকাত হোসেন সহ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, আমাদেরকে বিভিন্ন সময়ে এখনও হুমকী দিয়ে আসছে। বায়েজিদ মোল্লাকে চাকুরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত পূর্বক বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের চেকসমূহ বায়েজিদ মোল্লার কাছ থেকে উদ্ধার করতে হবে। আমাদের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ভাড়াটিয়া বাদী এবাদত হোসেন, শাহরিন ভানুসহ অন্য সব মিথ্যা মামলা দায়ের কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। বায়েজিদ মোল্লার স্থাবর অস্থাবর সম্পদ, আয়কর রিটার্ন ও ব্যাংক লেনদেন যাচাই করতে হবে।



