যশোরের ইজিবাইক চোর ও মাদক বিক্রেতাদের হাতে একই পরিবারের ১জন খুন তিনজন জখম : গ্রেফতার-৪

যশোর ব্যুরো ঃ চোর ও মাদক বিক্রেতাদের হাতে একই পরিবারের ১জন খুন ও ৩জন রক্তাক্ত জখম হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত এজাহার নামীয় এক নারীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। এরা হচ্ছে, যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া দক্ষিণপাড়ার কানা জামালের ছেলে রবিউল ইসলাম,তার ছেলে মুন্না, সহোদর বিল্লাল হোসেন ও যশোর শহরের শংকরপুর গ্রমের সাদ্দামের স্ত্রী বর্তমানে ডাকাতিয়া (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মুজিব খন্দকারের মেয়ে রুপালী বেগম। ঘটনাটি গত ৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মধু গাজীর বাড়ির সামনে। এঘটনায় ইজিবাইক চোর ও মাদক বিক্রেতাদের হাতে খুন হয়েছে মধু গাজীর ছেলে চঞ্চল হোসেন (৩০)। গত বৃহস্পতিবার ৯ অক্টোবর বিকালে মামলাটি করেন, মধু গাজী স্ত্রী নিহত চঞ্চল হোসেন মাতা মোছাঃ হাসিনা বেগম। মামলায় আসামী করেন, যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের জানা জামালের ছেলে রবিউল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, রবিউল ইসলামের ছেলে মুন্না যশোর শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদের পাশে বর্তমানে ডাকাতিয়া দক্ষিণ পাড়া জনৈক আবুল হোসেন এর বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত বেলায়েত মোল্যার ছেলে সাদ্দাম হোসেন, ডাকাতিয়া গ্রামের ভূট্টর ছেলে আসিফ, জামাল কানার স্ত্রী মোছাঃ ফুলি বেগম, সাদ্দামের স্ত্রী রুপালী বেগম।
মামলায় হালিমা বেগম উল্লেখ করেন, ২ মাস পূর্বে তার ছেলে চঞ্চল হোসেন এর একটি ইজিবাইক চুরি হয়। রবিউল ইসলাম পেশাদার ইজিবাইক চোর তাই তাকে সন্দেহ করা হয় এবং চঞ্চল হোসেন তার সাথে ইজিবাইকের সম্পর্কে কথাবার্তা বললে তর্ক বিতর্ক হয় এবং তার সাথে মারমুখি আচারণসহ জীবন নাশের হুমকী প্রদান করে। আসামীদের ভয়ে চঞ্চল হোসেন নিশ্চুপ হয়ে পড়ে। গত ৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার সময় ডাকাতিয়া দক্ষিণপাড়া বাদির স্বামীর বর্তমান ভাড়া বাড়ির সামনে রবিউল ইসলাম, মুন্না, সাদ্দামগন মাদক বিক্রয় করছিল। ইতিমধ্যে দু’জন লোক আসে এবং তাদের মাদকের টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয় এবং অশ্লীল ভাষায় কথা বলতে থাকে। তখন বাদির স্বামী মধু গাজী তাদেরকে বলে তার বাড়িতে গৃহবধূ আছে এখানে মুখ খারাপ করা কথা বার্ত বলা যাবে না। এই কথা বলার সাথে উক্ত আসামীরা মধু গাজীর উপর আক্রমন শুরু করে। তারা মোবাইল ফোন করে তাদের সহযোগী বিল্লাল ,আসিফ,ফুলিদের ডাকলে আসামীরা দেশীয় অস্ত্র দা,হাসুয়া, ছুরিসহ উক্ত স্থানে এসে। তখন আসামী রুপালী ছুরি হাতে নিয়ে উক্তস্থানে এলে আসামীদের তান্ডব দেখে বাদি তার ছেলে চঞ্চল ও ছেলে তুহিনসহ স্বামীকে আসামীদের হাত থেকে ঠেকাতে আসে। এক পর্যায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সু-পরিকল্পিতভাবে রবিউল রুপালীর কাছ থেকে ছুরি নিয়ে চঞ্চল হোসেন এর মাথা,বাম পায়ের উরুতে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তখন বাদির ছেলে দৌড়ে হালিমা ঘরে আশ্রয় নিতে গেলে সেখানে মেঝেতে পড়ে যায়। তখন সাদ্দাম এর হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে মাথায় কোপ মারলে রক্তাক্ত জখম হয়। মুন্না এর হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে চঞ্চল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা,পায়ের গোডাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। অন্যান্য আসামীরা বাদির ছেলে চঞ্চল,তুহিন ও স্বামী মধু গাজী এবং বাদিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ীভাবে কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয় লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আসামীরা প্রাণ নাশের হুমকী দিয়ে চলে যায়।গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের চারজনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে চঞ্চল হোসেন মারা যায়। বাদীরা চিকিৎসা গ্রহন করে। ঘটনার পর পুলিশ উক্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করে। বাদিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানাগেছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের শনিবার ১১ অক্টোবর দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে বিরাজ করছে। #



