মোল্লাহাটে হেমন্তের পাকা ধান কাটার উৎসব- কৃষকের মুখে হাসি

শরিফুল ইসলাম দিদার – মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মোল্লাহাটে হেমন্তের পাকা ধান কাটার উৎসবে শুরু হয়েছে। সবুজ ফসলের মাঠজুড়ে কাঁচা-পাকা ধানের আভা ছড়িয়ে শুরু হলো অগ্রহায়ণ। তাই হিমেল হাওয়ায় ভেসে আসা হেমন্তকাল সবুজ হলুদ রঙে আমনের ম-ম সুবাস ছড়িয়ে দিগন্তজোড়া। আনন্দ আহ্বানে কৃষক পরিবারের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন ফসলের বার্তা। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন চলছে পাকা ধান কাটার ব্যস্ততা। মুখে হাসি নিয়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে মোল্লাহাট উপজেলায় ৩,৩১০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে, এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণসহ ফলন আশানুরূপ হয়েছে।
উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা গ্রামের কৃষক মো. রিপন খান বলেন, এ মৌসুমে আমি হাইব্রিড ধানীগোল্ড জাতের ধান লাগিয়েছি। বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২২ মণ ধান পাব বলে আশা করছি। একই ইউনিয়নের গিরিশনগর গ্রামের কৃষক অমৃত মজুমদার বলেন, আমি ব্রি ধান-১০৩ চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে, বিঘা প্রতি ৩০ মণ পর্যন্ত ধান পাব বলে আশা করছি। গাড়ফা গ্রামের আরেক কৃষক মুরাদ শিকদার জানান, আমি ব্রি ধান-৪৯ জাতের ধান চাষ করেছি। ১৩ শতাংশ জমিতে প্রায় ১২ মণ ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মতিয়র রহমান বলেন, এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ফলন হয়েছে আশানুরূপ। আবহাওয়া ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা ভালোই লাভবান হবেন। তিনি আরো জানান, এ মৌসুমে আমাদের আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩,২০০ হেক্টর যা আমাদের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ৩,৩১০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।
মোল্লাহাটের মাঠজুড়ে হেমন্তের সোনালি ছোঁয়া। হেমন্ত মানেই পাকা ধানের সুবাস। জমিনজুড়ে চোখে পড়ে ফসলের ঢেউ। আর সেই ফসল কেটে ঘরে তোলার সন্ধিক্ষণে ঝরে পড়ে কৃষকের সোনাঝরা হাসি। গ্রামাঞ্চলে বিরাজ করবে উৎসবের আমেজ। মাটি লেপা উঠানে দেখা মিলবে ধান কাটা থেকে মাড়াই কিংবা ধান শুকানোর শেকড়সংলগ্ন দৃশ্যকল্প। গোলা ভরা নতুন চালের গন্ধে আন্দোলিত হবে কৃষকের মন-প্রাণ। এক সময় হেমন্তের প্রথম মাস কার্তিককে অপয়া মনে করা হতো। মরা কার্তিক আখ্যা দেওয়া হতো। সেই সময় ফসল না হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যাভাব দেখা দিত। তবে বদলে গেছে সেই দিন। বর্তমানে পুরো হেমন্তকালই সমৃদ্ধির মৌসুম হিসেবে পরিচিত। কার্তিক মাসেই হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ওঠে আমন ধানের শীষ। বাতাসে ভেসে বেড়াবে ধানের মিষ্টি ঘ্রাণ। অগ্রহায়ণে পড়ে যাবে ধান কাটার ধুম। কৃষকের ঘরে বিরাজ করবে উৎসবের আবহ। নতুন ধানের চালে নিত্যদিনের আহারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তৈরি হবে রসনাবিলাসী পিঠা-পায়েস। রাশি রাশি আনন্দে কৃষকের ঘরে ঘরে উদ্যাপিত হবে নবান্ন উৎসব।



