স্থানীয় সংবাদ

সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে : মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

খুলনা অঞ্চল জামায়াতের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি স্বীকৃতি প্রদান করে তার আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর দাবি জানানো হয়। তিনি বলেন, দেশের জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে। তাই আমরা সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিতের জোর দাবি জানাচ্ছি। শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
খুলনা অঞ্চল নির্বাচনী দায়িত্বশীল মাস্টার শফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান, মুহাদ্দিস রবিউল বাসার, খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা আমীর শহিদুল ইসলাম মুকুল, বাগেরহাট জেলা আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, খুলনা জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, বাগেরহাট জেলা সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, বাগেরহাট-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, বাগেরহাট -১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মঞ্জুরুল হক রাহাত প্রমুখ। এ ছাড়া সমাবেশে খুলনা অঞ্চলের অধীনে ৪ টি জেলা ও মহানগরীর ১৩ টি আসনের পরিচালক এবং সদস্য সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, সরকার যেন অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি করে এবং আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোটের আয়োজন করে। পাশাপাশি ওই গণভোটের ফলাফলের আলোকে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে জাতি সরাসরি ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারবে, জাল ভোট ও কারচুপি প্রতিরোধ হবে এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘জামায়াত একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক দল নয়, বরং যোগ্য ও আদর্শবাদী মানুষ গড়ার আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয়।’ তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার গত দেড় যুগ ধরে বিরোধী মতের লাখ লাখ মানুষের ওপর হত্যা, গুম, জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। এ জুলুমের সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তিনি আরও বলেন, স্বৈর শাসনামলে দেশের মানুষের ভোটাধিকার, মৌলিক নাগরিক অধিকার, বিরোধীমতের সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং করার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। আওয়ামী সরকার দেশের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা আশা করি অন্তবর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button