বন কর্মকর্তা আনিছুরের ইচ্ছাতে চলছে পোস্টিং বাণিজ্য

# কোবাদক ফরেস্ট অফিসে ঘুষের অর্থ যোগাড়ের দায়িত্ব দিয়েছেন বিধান মন্ডল কে
স্টাফ রিপোর্টার ঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়দানকারী আনিছুর রহমানের ইচ্ছায় এখনও চলছে দক্ষিণ বেদকাশি ফরেস্ট অফিস। বর্তমানে তদবির আর নগদ টাকা ঘুষের বিনিময়ে বদলী পোস্টিং বাণিজ্যে এখন ফরেস্টে ওপেন সিক্রেট।
জানাযায় পাস্টিং বাণিজ্যের মাধ্যমে অভিজ্ঞ ফরেস্টারদের রেঞ্জ এবং চেক পোষ্টের দায়িত্ব না দিয়ে আনিছুর রহমানের পছন্দের ইচ্ছায় জুনিয়র ফরেস্টার এবং ফরেস্ট গার্ডদের ভালো জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে। জানাযায় ফরেস্টগার্ড মোঃ রেজাউলকে কাগজ-কলমে আন্ধার মানিকে পোস্টিং থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছে কাসিরাবাদ এলাকায়। এছাড়া মসিউর রহমান কাছিঘাটা পোস্টিং থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছে কৈখালি এলাকায়। এ দিকে বিধান মন্ডল ফরেস্ট গার্ড কাগজ কলমে দোবোকি টহল ফাঁড়িতে কর্মরত থাকলেও বাস্তবে কাজ করছেন কোবাদক ফরেস্ট অফিসের ক্যাশিয়ার পদে। আর এই ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে থেকে তিনি বিভিন্নভাবে অর্থ কালেকশন করে জমা দিচ্ছেন আনিছুরকে। আর এই অর্থের একটি বড় অংশ তিনি নিচ্ছেন বলে জানাগেছে।
এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দূর সম্পর্কের খালাতো ভাই পরিচয় দান কারি শেখ আনিছুর রহমানের তদবির করে পোস্টিং নিয়ে, সরকারি নিয়ম কে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে তার পছন্দের ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের পোস্টিং করছেন আর অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিনত করলেও এখনও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বন বিভাগ থেকে। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, জেলে লুতফর মোল্লা ৩০ টা ভ্যাসালি নৌকা দিয়ে মাছ ধরার জন্য এদের গোনপ্রতি নৌকায় দিতে হয় তিন হাজার টাকা। এমনকি অর্থের বিনিময়ে কয়রা দশালিয়ার জেলেদের আরো অনেকে নিষিদ্ধ আটনের নৌকা দিয়ে মাছ ধরতে দেয়া হচ্ছে এই বিধান মন্ডলের মৌখিক অনুমোদনে। নৌকা প্রতি পাশ বাবদ এক হাজার পাঁচশ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা নেয়া হয় জেলেদের কাছ থেকে। এছাড়া বিধান মন্ডলের বিরুদ্ধ আরো অভিযোগ রয়েছে তিনি সরকারি ব্যাটারি পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। আর তার এই অর্থ লেনদেন হয় বিভিন্ন জেলেদের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত বিকাশ নাম্বারে থেকে। তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকলেও তিনি বহাল তবিয়তে কাজ করছেন। যেখানে তিনি কাগজ কলমে পোস্টিং নেই তারপরও কাজ করছেন। তার বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চাইলে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিচ্ছে বলে জানাগেছে। এমনকি তার অনিয়মের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে বিধান মন্ডলের মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। এছাড়া মুল অভিযুক্ত শেখ আনিছুর রহমানের ব্যবহারিত মুঠো ফোনটি ও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে এসও কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ব্যবস্থা নিতে। বর্তমানে তিনি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলে তিনি জানান।



