দৌলতপুরে মাদক ও ইভটিজিং সচেতনতা মতবিনিময় সভা

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনায় সম্প্রতি উদ্বেগজনকভাবে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দৌলতপুর থানা এলাকার পাবলা তিন দোকানের মোড়ে একটি আঙ্গিনায় পাবলা সমাজ কল্যাণ পরিষদ ও কেএমপি’র উদ্যোগে মাদক ও ইভটিজিং সচেতনতা এবং ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন এমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: রাশেদুল ইসলাম খান। এলাকার সর্বস্তরের বাসিন্দাদের জ্ঞাতার্থে তার শৈশব ও কৈশোরের ব্যক্তিগত স্মরণীয় ঘটনাবলী বিশদ আলোকপাত করেন। রাশেদুল ইসলাম আরো বলেন, যে বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতিতে আমি এবং আপনাদের পক্ষ থেকে আজকে এলাকাবাসীকে বলতে হবে যে কত সময়ের ভিতরে এই এলাকায় সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত হবে।সাংবাদিক হাসান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলাম খান বলেন ওসিরা এরকম রাজনৈতিক তাপচাপের কথা বলে থাকেন কিন্তু দৌলতপুরে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ কোন অপরাধীকে আটক করতে পারেনি।রাশেদুল ইসলাম আরও বলেন,এটা আমাদের ব্যর্থতা স্বীকার করছি কিন্তু পুলিশ পরিদর্শক থেকে আপার লেভেল পর্যন্ত কোন লেনদেন যদি হয় তাহলে সে কেএমপি’তে থাকতে পারবেনা। কেএমপির অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন, উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তর মোঃ তাজুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম, দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম, ট্রেড স্কুল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ জাকিরুল ফিরোজসহ অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ। সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে প্রফেসর আব্দুল মান্নান,এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজা ও সৈয়দ আনিসুজ্জামান এলাকায় মাদক নির্মূলে পরামর্শ স্বরূপ বক্তৃতা করেন।এর আগে দৌলতপুরস্থ পিরামিড ক্লিনিকের নিচ তলার মুক্তাঙ্গনে তথ্য বাক্স স্থাপন করা হয়।উদ্বোধন কালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: রাশেদুল ইসলাম খান জনতার উদ্দেশ্যে তথ্য বাক্স এর তাৎপর্য তুলে ধরেন। সমাজের অপরাধীদের সম্পর্কে গোপন ভাবে নিরাপদে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে দৌলতপুর থানা এলাকার পিরামিড ক্লিনিক এর তথ্য বাক্স উদ্বোধনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।সভায় কেএমপি কর্তৃপক্ষ জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ একা সফল হতে পারে না, এ জন্য সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। নাগরিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, চোরাচালান, মাদক, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পুলিশ সদা প্রস্তুত।এ সময় এলাকাবাসীর মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের পাশাপাশি দৌলতপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে “গোপন তথ্য বাক্স” স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ভয় বা চাপ ছাড়াই অপরাধীদের সম্পর্কে গোপন তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করতে পারেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানান, এসব বাক্স প্রতিদিন মনিটর করা হবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মতবিনিময় সভায় সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা কেএমপি’র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন।কেএমপি কর্মকর্তারা বলেন, “নিরাপদ খুলনা গড়তে পুলিশ-জনতার সমন্বয়ই হলো সবচেয়ে বড় শক্তি।”



