রূপসায় চেক জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

# নিঃস্ব কয়েকটি পরিবার: প্রতারকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা #
রূপসা প্রতিনিধি : উপজেলা রূপসার কিসমত খুলনা (খোলার বটতলা) এলাকায় রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি একাধিক ব্যাংকয়ের চেক জালিয়াতি করে বহু পরিবারের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে । বর্তমানে ঐ সকল পরিবারের সদস্যরা জীবন নাশের হুমকি নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই সকল ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম অসহায়ত্ব হয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুর সুরাহার না’পেয়ে একাধিক মামলা দায়ের করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ন্যায় আশায়। ভূক্তভূগী পরিবার, স্থানীয় থানায় অভিযোগ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, কিসমত খুলনা গ্রামের হাবিবুর রহমানের পুত্র মোঃ রবিউল ইসলাম বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে কৌশলে জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা যায়। বাগমারা গ্রামের মৃত: মতিউর রহমান শরীফ এর পুত্র মোঃ ইমরান শরীফ এর নিকট হতে কয়েক দফায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ নিক্সন গার্মেন্টস এর প্রতিষ্ঠানের প্যাডে লিখিত ও ইসলামী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, এনআরবিসি ও কৃষি দ্বারা ব্যাংকের চেক প্রদান করে কয়েক দফায় ইটের ব্যবসার অংশীদার করে মোট ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী ইমরান শরীফ নির্দিষ্ট সময়ে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি- ধামকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে ইমরান শরীফ চলতি বছরের ১৮ আগষ্ট রূপসা থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আশানুরূপ ফলাফল না’পেয়ে তিনি ৩০/৯/২৫ এ খুলনা জেলার রূপসা বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে রূপসা সি,আর-৫২৮/২৫, ধারা ৪০৬/৪২০/৫০৬ (২) মামলা দায়ের করেন। এরপর ৯/১১/২৫ তারিখে একই কোর্টে রূপসা, সি,আর ৬১৩/২৫ । এন,আই এ্যাক্টের ১৩৮ ধারা মোতাবেক দ্বিতীয় মামলা দায়ের করেন। ২৪/১১/২৫ তারিখ একই আদালতে রূপসা সি, আর ৬৩৩/২৫। মামলার ধারা: এন, আই এক্টের ১৩৮ ধারা মোতাবেক তৃতীয় মামলা দায়ের করেন। একই দিনে ও একই আদালত রূপসা সি, আর ৬৩৪/২৫। মামলার ধারা এন,আই,এক্টের ১৩৮ ধারা মোতাবেক চতুর্থ মামলা দায়ের করেন। অপর ভুক্তভোগী নিকলা পুর গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের পুত্র শেখ ইমদাদুল ইসলাম এর নিকট হতে ২০২১ সালে ইটের দাদন হিসেবে এনআরবিসি ব্যাংক খুলনা শাখার দুটি চেক দিয়ে প্রথমটিতে তিন লক্ষ টাকা ও দ্বিতীয় টিতে চার লক্ষ, সর্বমোট সাত লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় ইট-ভাটার মৌসুমী এক লক্ষ দশ হাজার ইট প্রদান করবেন এই শর্তে। কিন্তু তিনি ইট ও টাকা কোনটিই দেয়নি। বরংচ একের পর এক ভুক্তভোগীদের হয়রানি করেতে থাকে । কোন উপায়ান্ত না’পেয়ে ভুক্তভোগীরা কোর্টে মামলা দায়ের করেন ২০২৩ সালে। মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষের দিকে বলে জানা যায়।
আরেক ভুক্তভোগী জয়পুর নিবাসী মোঃ আলী হোসেনের স্ত্রী শিরিনা বেগমের নিকট হতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড খুলনা শাখার চেখ দিয়ে ইট দেয়ার কথা বলে ৬ লক্ষ টাকা নিয়েছে। ভুক্তভোগী শিরিনা বেগম ব্যাংকে চেক জমা দিলে ব্যাংক সেটিকে ডিজঅনার করেছে। মামলা করার জন্য রবিউলকে উকিল নোটিশ প্রেরণ করেছেন শিরিনা বেগমের উকিল। মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপর আরেকজন ভুক্তভোগীর জয়পুর গ্রামের সেলিম মোল্লার স্ত্রী খাদিজা বেগমের নিকট হতে একর জমির মূল্য বাবদ ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে চার লক্ষ(০৪) টাকা ২১/ ১/ ২০২৪ তারিখ হইতে দুই মাস মেয়াদী বায়না পত্র দলিল করে গ্রহণ ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর খুলনা শাখার একটি চেক প্রদান করে আরো নগদ তিন লক্ষ টাকা মোট ৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় এই রবিউল। উপরে উল্লেখিত ভুক্তভোগী ছাড়াও জানা যায় আরো অসংখ্য লোকের কাছ থেকে এই সুচতুর রবিউল বিপুল সংখ্যক অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অনেক মানুষকে পথে বসিয়েছেন। রবিউল তার নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটিয়ে নতুন নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে নিজে ফেপে-ফুলে উঠেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আজ মানবতার জীবনযাপন করছে। এ সকল ভুক্তভোগী পরিবারের জোর দাবি অচিরেই দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এই রবিউলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যাতে সে আর কোন মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে নিজস্ব করতে না’পারে।



