স্থানীয় সংবাদ

বাগেরহাটের রামপালে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ ১৪ জন জখম, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

আজাদুল হক, বাগেরহাট।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ঘেরের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসিন বিএনপির স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ভাগা বাজার এলাকায় শনিবার রাত ৯ টা থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষেল ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্ততঃ ১৫ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রামপাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধিন উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে ও পুলিশের দেয়া তথ্যমতে জানা গেছে, এলাকার বিবাদমান একটি মৎস্যঘেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে দুই ব্যাক্তিকে ধরে এনে ভাগা বাজার এলাকার বিএনপির অফিসে রাখা হয়। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলের যাওয়ার পূর্বে বহিরাগত কয়েকজন ব্যাক্তি আটক ব্যাক্তিদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে দাবী করেন আকবর হোসেন আকো। তিনি জানান, ওই সময় তাদের গ্রুপের আকবর হোসেন আকো (৫৫), মাসুদ শেখ (৩৮), খোকন শেখ (৩৬), কামরুল শেখ (৪০), শামীম শেখ (৩২), জাহিদ শেখ (৩৫), হানিফ শেখ (৪০) ও সেকেন শেখ (৪৫) আহত হন। এদের মধ্যে মাসুদ ও খোকন কে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অপর পক্ষের কামাল হোসেন জানান, তাদের দুইজন লোক আটক করেছে শুনে ভাগা বাজারে গেলে প্রতিপক্ষরা আব্বাস শেখ (৪৫), কামাল হোসেন (৩০), সোহাগ শেখ (২০), সাগর শেখ ((২০), রাজু শেখ (৪৫), ওসমান শেখ (৪১), ইসলাম শেখ (৩০) কে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। এ সময় ভাগা বাজারে বিএনপির অফিস ভাংচুর, কাকড়া ডিপো ভাংচুর, বিকাশের দোকান ভাংচুর, চায়ের দোকানসহ ভেটের্নারী ঔষধের দোকান ভাংচুর ও টাকা লুটপাটের ঘটনার বিষয়ে আকবর হোসেনসহ বাজার কমিটির সভাপতি জানান, শামীম, আশা, আবু তালেব, মোশা, সফরুল গাজী ও কামালসহ শতাধিক লোকজন এ হামলা করে অফিস ভাংচুর, মারপিট ও লটপাট করেছে। অপর পক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে বিএনপির অফিস ভাংচুর ও নেতৃবৃন্দের ছবি ছেড়ার বিষয়টি শহিদুল ইসলাম অস্বীকার করেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম জানান, ভাগার ঘটনায় আমি সেখানে যাইনি বা ছিলাম না। কিন্তু আমার বাড়ীর সামনে এসে ভয়ভীতি, গালাগাল ও হুমকি প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, খবর পেয়েই জাহিদুলের বাড়ির সামনে গিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকি, যাতে কেউ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে। তবে তিনি বলেন নিছক মৎস্যঘের সংক্রান্ত বিরোধ এটি। কোন রাজনৈতিক বিষয় নয়। বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ভাগার সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। রাত প্রায় ২ টা পর্যন্ত ভাগাতে তিনি অবস্থান করা কালিন সময়ে অফিস ভাংচুরের কোন ঘটনা ঘটেনি। সাবেক উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলামের বাড়ির সামনের সরকারি রাস্তায় উত্তেজনা দেখা গেলেও কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। হামলা, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কেহই থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি।#

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button