বিচারালয়কে তীর্থস্থানের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে

# খুলনায় আইনমন্ত্রী #
# ৩দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারকে আরও সুসংহত করতে বিচারালয়কে তীর্থস্থানের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। এ জন্য আইনজীবীদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত যোগ্যতার মান আরও উন্নত করতে হবে এবং সব ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে। আজ (শুক্রবার) বেলা সাড়ে ১২ টায় খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে একটি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অতি শীঘ্রই দেশের সব জেলা বারে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বিজ্ঞ বিচারক গড়ে তুলতে হলে আগে বিজ্ঞ ও দক্ষ আইনজীবী তৈরি করতে হবে হলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, আমীর এজাজ খান এমপি, এ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল এমপি, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম আল রাজী ও জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ মাসুম রশীদ। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মোল্লা মশিয়ুর রহমান নান্নু। এর আগে তিনি খুলনা জেলা জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।
অপরদিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের জন্য এক নিরন্তর অনুপ্রেরণার উৎস। রবীন্দ্রনাথকে ছাড়া বাঙালি জাতিসত্তা, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পূর্ণাঙ্গভাবে কল্পনা করা যায় না। তিনি (শুক্রবার) বিকেলে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় ছিলো: ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’।
মন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলারই সম্পদ নন, বরং সাহিত্যপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আজও বেঁচে আছেন। তাঁর কালজয়ী সাহিত্যকর্ম যুগে যুগে মানুষের জীবনবোধ, মানবতা ও সৌন্দর্যচেতনার প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে রবীন্দ্রপ্রেম ও সংস্কৃতিচর্চা ছড়িয়ে দিতে পারলে তরুণরা মাদক থেকে দূরে থেকে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকান্ডে আরও বেশি মনোনিবেশ করবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মুঃ বিল্লাল হোসেন খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তৃতা করেন শিক্ষাবিদ ও খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান। এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচি রানী সাহা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।



