স্থানীয় সংবাদ

রক্ষকদের সহযোগিতায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সুন্দরবন

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে স্বীকৃত সুন্দরবন পৌছেছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কিছু অসাধু ব্যাক্তিদের লালসার কারনে আজ হুমকির মুখে সুন্দরবন। অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরবনকে ধ্বংসের মুখে ফেলতে সহযোগিতা করছেন স্বয়ং রক্ষকগন। বন প্রহরী থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, অধিকাংশই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের। বছরের পর বছর যায়, কর্মকর্তাগন পরিবর্তন হয়, সরকারও পরিবর্তন হয়ে অন্য সরকার আসে, তবুও থেকে যায় এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই চেইন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অসাধু ব্যাক্তিগন নিয়ন্ত্রন করেন সুন্দরবন। গবেষণায় দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে সুন্দরবনে মাছের ঘনত্ব কমেছে ৪৭ শতাংশ। যার অন্যতম মুল কারন অভয়ারণ্যে বিষ প্রয়োগ। সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরায় ধ্বংস হচ্ছে হাজার প্রজাতির জীব। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের অন্তর্গত সাতক্ষীরা ও খুলনা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে বিভিন্ন অভয়ারণ্য এবং নদী-খালে অসাধু জেলেরা বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রধানত দোবেকি, খবরাখালী দারগাং, কাছিকাটা, আঠারোবেকী, ফিরিঙ্গি, ফুলবাড়িয়া, হাতিভাঙ্গা, চালতেবাড়িয়া, উলুবাড়িয়া, বেহালা কয়লা, তালপট্টি, ইলশেমারি, নোটাবেকী, পুষ্পকাটি, মান্দারবাড়িয়া, বিবিরমাদিয়া, হাড়িয়াভাঙ্গা, চুনকুড়ি দত্তেখালি, খাসিটানা, ঝাপসি, ভদ্রা, হাডড়া, চালুবগী, নিষেনখালী, সাহেবখালী, বোটবুড়নিয়া, পাটকোষ্টা, হংশরাজ, পাঠাঘাঠা, ভোমরখালী, এবং আড়–য়া শিবসা এলাকার বিভিন্ন খালে ও নদ-নদীতে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ঘটনা ঘটে। অভয়ারণ্যে প্রবেশে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সংশ্লিষ্ট বনপ্রহরী, স্টেশন কর্মকর্তা এবং এ সি এফ’কে ম্যানেজ করে এই অঞ্চলগুলোতে প্রতিনিয়ত চলছে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার। বনের নানা দুর্নীতি অনিয়ম নিয়ে ইতিপূর্বে কয়েকটি সংবাদ প্রচারিত হওয়ায় আই ওয়াশ অভিযানে নামে বন বিভাগ। তবে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় ৫টি নৌকা। খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক মোঃ শরিফুল আলমের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে নৌকাগুলো আটক করা হলেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে জেলেদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এসিএফ শরিফুল,স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল সালাম ও বন প্রহরী মো: আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা রেঞ্জের অভয়ারণ্যে মাছ শিকার, গোলপাতা, মধু আহরণ সিন্ডিকেট থেকে প্রতিনিয়ত মাসোয়ারা নেন এসিএফ শরিফুল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জেলে বলেন, “নি¤œ-অঞ্চলে তেমন কোন মাছ পাওয়া যায় না। তাই ভিতরে (অভয়ারণ্যে) যাই। টাকা না দিলে ভিতরে ঢুকতে দেয় না। নৌকাপ্রতি ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করা লাগে।” গোপন সূত্রে জানা যায় , বনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে যোগসুত্র স্থাপন করেন স্টেশন কর্মকর্তা ও বন প্রহরী। খুলনা রেঞ্জের কালাবগি স্টেশন সংলগ্ন এলাকার কয়েকজন ব্যাক্তি জানান, বন প্রহরী আতিয়ারের দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করা হলেও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। কালাবগী স্টেশন কর্মকর্তা আঃ সালাম ও বন প্রহরী মোঃ আতিয়ার রহমান স্টেশনের আওতাধীন সুতারখালি, লাউডোব, কালাবগী নলিয়ান এলাকার মাছ ও কাঁকড়ার ডিপো হতে মাসিক টাকা আদায় করে থাকেন। আর এতে করে জেলেদেরকে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করার সুযোগ করে দেন। এমনকি স্টেশনের অধিনস্থ হাড্ডোরা ও ভদ্রা নদীর নিষিদ্ধ খালে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হয়। আর তাদের নিকট হতে গোনপ্রতি চুক্তির মাধ্যমে টাকা আদায় করেন স্টেশন কর্মকর্তা ও ক্যাশিয়ার। গত বছর বন বিভাগের প্রকল্পের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বর্তমান বন সংরক্ষক এ জেড এম হাছানুর রহমানসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্প বাদেও ডি এফ ও’র বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে বন প্রহরী মনির ও সহকারী হিসাবরক্ষক (বড় বাবু) আলী হোসেনের বদলি বাণিজ্যের মধ্যস্থতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুদক জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের কাজ সরে জমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে দুদকের এক কর্মকর্তা। এদিকে দুদকে অভিযোগের বিষয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বন সংরক্ষক এ জেড এম হাছানুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। বদলি বাণিজ্য সহ বনের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বদলির তথ্য এই মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়। সুন্দরবনে কর্মরত কোন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button