খুলনা ইসলামীয়া হাসপাতালের সেই পরিচালক কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চর হোগলাবুনিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম অভিযুক্ত খুলনা ইসলামীয়া হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল তালুকদারকে গত রবিবার (২৪ এপ্রিল) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল ফের বাগেরহাটের একটি আদালতে তার জামিন আবেদন করলে আদালত নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। মামলা সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চর হোগলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহমুদ হাসান (সুমন) তার পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করলে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজ চলাকালে হেলাল তালুকদারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সেখানে গিয়ে বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মাহমুদ হাসানের অভিযোগ, হামলার সময় অভিযুক্তদের একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি সরে যাওয়ায় কোপটি মুখের ডান পাশে লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অন্য অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনাস্থলে তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা তার পিতা মো. জালাল তালুকদারও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নাজমুন নাহার নামে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি এবং তার গলায় থাকা প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি আদালতে অভিযোগ করেন। ওই ঘটনায় তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে মাহমুদ হাসান আদালতের শরণাপন্ন হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন। সর্বশেষ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হেলাল তালুকদারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। তবে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাত, হামলা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী।


