স্থানীয় সংবাদ

‘নগরীতে কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী থাকবে না, থাকবে একমাত্র পুলিশ বাহিনী’

# কেএমপি কমিশনারের কঠোর বার্তা #
# টানা যৌথ অভিযানে গ্রেফতার দুই শতাধিক
# আটক চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজ

কামরুল হোসেন মনি :
খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “নগরীতে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন বা বাহিনী থাকবে না, থাকবে একমাত্র পুলিশ বাহিনী।”
গতকাল রোববার (৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় কেএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে চলমান বিশেষ যৌথ অভিযানের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সভায় মহানগরীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কেএমপি কমিশনার বলেন, খুলনা মহানগরীকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে চলমান অভিযান আরও জোরদার ও কৌশলগতভাবে পরিচালনা করা হবে। কোনো অপরাধী চক্রকে নগরীতে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের গ্রেফতারে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা দ্রুত দূর করতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।”
চার দিনের অভিযানে দুই শতাধিক গ্রেফতার :
কেএমপি সূত্র জানায়, গত ৪ জুন থেকে ৭ জুন সকাল ১০ টা পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ এবং ১১টি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপ আটক করা হয়। ৪ জুন পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ছাড়াও ১১টি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপ জব্দ করা হয়। ৫ জুন রাত ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত আরেক অভিযানে গ্রেফতার করা হয় ৫৯ জনকে। তাদের মধ্যে খুলনা থানা থেকে ১৩ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা থেকে ১৩ জন, লবণচরা থানা থেকে ৬ জন, হরিণটানা থানা থেকে ১ জন, খালিশপুর থানা থেকে ১৬ জন, দৌলতপুর থানা থেকে ৮ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) থেকে ২ জনকে আটক করা হয়। একইদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে আরও ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে খুলনা থানা এলাকায় ১৬ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ১১ জন, লবণচরা থানায় ১০ জন, খালিশপুর থানায় ১৩ জন, খানজাহান আলী থানায় ৬ জনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
গ্রেফতার মিরাজ মৃধা, কসাই লিটন ও রিফাত :
৬ জুন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে আরও ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিরাজ মৃধাসহ ৬ জন মাদক কারবারি, একজন চোর এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আরও ৩০ জনকে আটক করা হয়। একই অভিযানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর অন্যতম সহযোগী কসাই লিটন ও রিফাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ইয়াবাসহ আটক পলাশ গ্রুপের সহযোগী পার্থ :
৬ জুন রাত ৮টার দিকে খুলনা সদর থানাধীন পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় খুলনা সদর থানা পুলিশ। এ সময় পলাশ গ্রুপের সহযোগী ও খুলনা সদর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থ (৩০)-কে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, পার্থের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সিডিএমএস পর্যালোচনায় খুলনা সদর ও খালিশপুর থানায় তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা পাওয়া গেছে।
‘অপরাধীদের কোনো ছাড় নয়’ :
কেএমপি কমিশনার সভায় আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, “সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
সভায় কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স ও অতিরিক্ত দায়িত্বে ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যান্ড প্রটোকল) মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদসহ ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী কমিশনার এবং বিভিন্ন থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন। কেএমপি জানিয়েছে, মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি, জুয়া ও ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গত ৪ জুন অনুষ্ঠিত বিশেষ অপরাধ সভায় যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযানে কেএমপি’র পাশাপাশি র‌্যাব-৬, খুলনা জেলা পুলিশ, ৩ এপিবিএনসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অংশ নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button