স্থানীয় সংবাদ

অগ্নিকাণ্ডে বন্ধ খুলনা সিটি মেডিকেল, ২৫০ রোগী স্থানান্তর ; চালু হতে লাগবে ৩-৪ দিন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকা-ের ঘটনায় ভর্তি থাকা প্রায় ২৫০ রোগীকে মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আগুনে হাসপাতালের দুটি অক্সিজেন প্লান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালটি পুনরায় চালু করতে অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে হাসপাতালের বেজমেন্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কোনো রোগীর প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের ম্যানেজার মো: হামিদুল ইসলাম জানান, অগ্নিকা-ের সময় হাসপাতালে প্রায় ২৫০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে আদ-দ্বীন হাসপাতাল, ইসলামী হাসপাতাল ও গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উল্লেখযোগ্য। বাইপাস সার্জারি করা ছয়জন রোগীকেও আদ-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আগুনে হাসপাতালের দুটি অক্সিজেন প্লান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আতঙ্কের মধ্যে রোগীর স্বজন ও উপস্থিত লোকজনের কারণে কিছু ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও কোনো লুটপাট হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। খুলনা মহানগর টুটপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো: জাকির হোসেন জানান, হাসপাতালের জেনারেটর থেকে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আগুন নেভাতে গিয়ে তাদের ৭ জন ফায়ার ফাইটার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের হাত কেটে গেছে। অন্যান্যরা শ^াস কষ্টে ভুগছেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশনের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে পাঁচটি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১২টি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেজমেন্ট এলাকায় বিকট শব্দ শোনার পরপরই আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে জেনারেটর কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। এতে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নৌবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন। ক্রেন ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি কমাতে স্থানীয়রা হাসপাতালের কাচ ভেঙ্গে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
সোনাডাঙ্গা থানার এসআই নাদিম মাহমুদ জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় থানায় এখনও পর্যন্ত হাসপাতালের কেউ কোনো সাধারণ ডায়েরি করেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে জিডি করা হয়।
এদিকে শুক্রবার সকালে হাসপাতালের প্রবেশের মূল ফটকের পাশে অবস্থিত হাসপাতালের অপর ভবন থেকে ট্রিটমেন্ট স্লিপ ও রোগীদের রেখে যাওয়া মালামাল নিতে সেখানে আত্মীয়-স্বজনরা ভিড় করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে তাদের মাঝে তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button