স্থানীয় সংবাদ

দিঘলিয়ায় ভৈরব নদে পারাপার সংকট নিরসনের উদ্যোগ, ক্রিসেন্ট-পিপলস জুট মিলের মধ্যবর্তী রাস্তা ও দেয়াড়া-দৌলতপুর খেয়াঘাট পরিদর্শনে এমপি আজিজুল বারী হেলাল

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধানে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিতে ভৈরব নদীর পারাপার ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য এমপি হেলাল। এ সময় তিনি ক্রিসেন্ট-পিপলস মিলের মধ্যবর্তী রাস্তা ও দেয়াড়া-দৌলতপুর খেয়াঘাট পরিদর্শন করেন। গতকাল শনিবার(১৩ জুন) বিকালে ক্রিসেন্ট-পিপলস মিলের মধ্যবর্তী রাস্তা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় শিব বাড়ি মাঠে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ক্রিসেন্ট -পিপলস মিলের মধ্যবর্তী বন্ধ রাস্তা খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ রাস্তাটি খোলার মাধ্যমে এ জনপদের মানুষের নদী পারাপার অনেকটা লাঘব হবে। পরে তিনি দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নের দেয়াড়া-দৌলতপুর খেয়াঘাটটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি ঘাটের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে খুবই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এ সময় বলেন, ঘাটের পশ্চিম পার স্থানান্তর করে পরিত্যাক্ত সাবেক লঞ্চঘাটে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি দুই ঘাটেই পল্টনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটা ব্যস্ততম বাজারের সরু গলি দিয়ে একটা জনপদের মানুষের যাতায়াত সমুচিন নয়। এ সময় খুলনা জেলা ও দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, দিঘলিয়া উপজেলাটি ৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ২টা ইউনিয়ন খুলনা শহরের উত্তর কোল ঘেসে অবস্থিত আড়ংঘাটা ও যোগীপোল। বারাকপুর, দিঘলিয়া সদর ও সেনহাটি ইউনিয়ন ভৈরব নদী দ্বারা খুলনা জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন এবং ভৈরব, আতাই ও মজুদখালী নদী দ্বারা বেষ্টিত একটা দ্বীপাঞ্চল নিয়ে অবস্থান। এই ৩ ইউনিয়ন থেকে আতাই নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন একটা অবহেলিত ও সন্ত্রাস কবলিত ইউনিয়ন গাজীরহাট। প্রকৃতির দান নদী দ্বারা খন্ডিত সারা বছর পারাপারের ভোগান্তি ও জানমালের ঝুঁকি নিয়ে যুগের পর যুগ কাটাচ্ছে এ জনপদের মানুষ। আধুনিক ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার এ সময় এসে দিঘলিয়ার প্রায় পৌণে ২ লাখ মানুষ নদী পারাপারে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একদিকে এ জনপদের মানুষের সহজ যোগাযোগ ও খুলনা শহরের সাথে সেতুবন্ধন রচনায় উদ্ধারিত ও উদ্ভাসিত ক্রিসেন্ট-পিপলস জুট মিলের মাঝের রাস্তাটিসহ দিঘলিয়া এবং এর পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর শিশু, বৃদ্ধ, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ লাখ লাখ মানুষ প্রতিনিয়ত একটা ব্যস্ততম বাজারের ভেতর দিয়ে বছরের পর বছর মালামাল নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। যা অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। স্থানীয়রা আশা করছেন, ঘাট স্থানান্তর ও বন্ধ রাস্তা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দিঘলিয়ার মানুষের যাতায়াত সংকট অনেকটাই কমবে এবং ভৈরব নদী পারাপারে স্বস্তি ফিরবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button