স্থানীয় সংবাদ

বেনাপোল বন্দরে শ্রমিক কর্মবিরতি : আমদানি পণ্যের লোড-আনলোড বন্ধ

বেনাপোল প্রতিনিধি ঃ ক্রেন ও ফর্কলিফ্ট সরবরাহ, মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে দেশের বৃহত্তম যশোরের বেনাপোলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা। রোববার (১৪ জুন) সকাল থেকে হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। এর ফলে সকাল থেকেই বন্দরে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের লোড-আনলোড কার্যক্রম কার্যত পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক নেতারা জানান, বন্দর এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি, মেশিনারিজ ও অন্যান্য পণ্য ওঠানামার জন্য ক্রেন ও ফর্কলিফ্টের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বন্দরে এসব যন্ত্রপাতির সংখ্যা অনেক কম। ফলে শ্রমিকদের গভীর রাত থেকে শুরু করে কখনও কখনও সকাল পর্যন্ত কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা সমাধানের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি সচল থাকা কয়েকটি ক্রেন ও ফর্কলিফ্টও বিকল হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য সাত দিন আগে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কোনো ক্রেন বা ফর্কলিফ্ট বন্দরে না আসায় পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার সকাল থেকে সকল ধরনের লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। দেশের বৃহত্তম এই স্থলবন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মজুরির বিষয়ে শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমানে তারা অত্যন্ত কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রায় ১৪ বছর আগে প্রতি টনে শ্রমিকদের মজুরি ছিল ১৮ টাকা, যা আজ অবধি অপরিবর্তিত রয়েছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। বর্তমানে শ্রমিকরা প্রতি টনে ২৮ থেকে ৩৫ টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। শ্রমিকরা আরও বলেন, বর্তমানে যেসব ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে তার বেশিরভাগই পুরোনো ও জরাজীর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের কল্যাণে কোনো উদ্যোগ নেয় না, এমনকি বেনাপোলে প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী কোনো অফিসও নেই। প্রায় দুই মাস আগে একটি ক্রেনের তার ছিঁড়ে এক শ্রমিক নিহত এবং আরেক শ্রমিক আহত হন। সে সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিলেও দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক (৯২৫) ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী জানান, নতুন ক্রেন ও ফর্কলিফ্ট সরবরাহ, ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত শ্রমিকদের জন্য বাস্তব আর্থিক সহায়তা না পাওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে। কর্মবিরতি ও সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন ৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি, ইউনিয়ন ৮৯১ এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু এবং দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা। আরও উপস্থিত ছিলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১-এর সাধারণ সম্পাদক লিটন হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দীন, ৯২৫-এর সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইদ্রিস আলী ডাক্তার, প্রচার সম্পাদক ওমর ফারুক, কোষাধ্যক্ষ সবুজ হোসেন ও কার্যনির্বাহী সদস্য কামরুজ্জামান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button