খুলনায় মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ী গুলি!

# ঘটনাস্থলে হতে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, #
# জড়িতদের শণাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশের একাধিক টিম, এলাকায় চাঞ্চল্য #
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন পশ্চিম কাশিপুর ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পনী লিমিডেট (ওজোপাডিকো) অফিস সংলগ্ন বিদ্যুৎ জামে মসজিদের ভেতরে রবিবার (১৪ জুন) ভোরে ফজরের নামাজ পরবর্তী সময়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দুই মুসল্লিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ী গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- (১). বিদ্যুৎ জামে মসজিদের সাঃ সম্পাদক, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিডেট (ওজোপাডিকো)’র তালিকাভুক্ত ঠিকাদার, জ¦ালানী তেল ব্যবসায়ী ও উত্তর কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত: জব্বার শেখের পুত্র মো. লোকমান হাকিম (৫৫) এবং (২). একই এলাকার যমুনা রোড এলাকার বাসিন্দা মৃত: আব্দুল খালেকের ছেলে আলম শেখ (৫৬)।
সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজ পরবর্তী সময়ে ওই দুই মুসল্লী মসজিদের মধ্যে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিদ্যুৎ জামে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে প্রথমে লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে মাথায় ওই শরীরে এলোপাতাড়ী ৩ টি গুলি ছুঁড়েন, ওই পরিস্থিতিতে অপর মুসল্লি আলম শেখ চিৎকার করে উঠলে সন্ত্রাসী তাকেও লক্ষ্য করে তার ঘাড়ে ও শরীরে ২ টি গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। মসজিদের মধ্যে গুলির আওয়াজ শুনে আতঙ্কগ্রস্থ স্থানীয়রা ও ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত ও মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে খুলনার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক অবনতির কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার মাথা ও শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া অপর গুলিবিদ্ধ মুসল্লি আলম শেখ বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানা গেছে। এদিকে, সন্ত্রাসীদের এ হামলার ঘটনার কথা শুনে তাৎক্ষনিক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিদর্শকসহ সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি ঘটনাস্থলে হামলায় ব্যবহৃত গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িতদের শণাক্তের জন্য ঘটনাস্থলের আশাপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টার পাশাপাশি হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় উৎঘাটন ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে বলে পুলিশি সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্ব বা পূর্বশত্রুতার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিত হামলার এ ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের শণাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আমরা আশাবাদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের শণাক্ত ও গ্রেপ্তারে সক্ষম হবো। এদিকে, ধর্মপ্রাণ মুসমানদের পবিত্র ধর্ম উপাসানালয় মসজিদের মধ্যে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় ওই এলাকার জনসাধারনের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রীয়া, চরম নিরাপত্তাহীনা, উৎকন্ঠা ও ভীতি কাজ করছে। এমন ঘটনাটিকে ঘিরে ওই এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়েছেন, ঘরে নিরাপত্তা নেই, বাইরে নিরাপত্তা নেই, এমন কি ধর্মীয় অনুশাসন (ইবাদত) পালনের জন্য মসজিদে গিয়েও নিরাপত্তা নেই, তাহলে এটাই প্রমান করে প্রশাসন সাধারন মানুষের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্নরূপে ব্যর্থ। তারা আরও জানান, সম্প্রতি খুলনায় মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। এসব অভিযানে কিছু সংখ্যক মাদক বিক্রেতা-ব্যবসায়ী ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হলেও পর্দার আড়ালে থেকে যাচ্ছে বড় বড় রাঘব-বোয়াল, তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারছেন না পুলিশ প্রশাসন। পর্দার পেছনে থাকা সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদককের সাথে সম্পৃক্ত ওই সব রাঘব- বোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে পারলে খুলনা আবারো শান্তির নগরীতে পরিনত হবে বলে তাদের মন্তব্য।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই ফজরের নামাজের পর লোকমান ভাই দেরীতে মসজিদ হতে বের হন। রবিবার (১৪ জুন) ও তিনি নামাজের পর সকল মুসল্লি চলে যাওয়ার আলম নামের এক মুসল্লির সাথে কথা বলছিলেন। ঠিক ওই মূহুর্তে হঠাৎ সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং প্রথমে লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য এলোপাতাড়ী ৩ টি গুলি ছুঁড়েন এবং অপর মুসল্লি আলম শেখ চিৎকার করে উঠলে সন্ত্রাসী তাকেও লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ী ২ টি গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মসজিদের মধ্যে গুলি আওয়াজ শুনে স্থানীয় ও ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত ও মূমূর্ষ অবস্থায় খুলনার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক অবনতির কারণে চিকিৎসকরে পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপর গুলিবিদ্ধ মুসল্লি আলম শেখ বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে গুলিবিদ্ধ লোকমান হাকিমের ছোট ভাই রবি মুঠোফোনে জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভাইকে খুলনা হতে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অস্ত্রপচার করে তার মাথা ও শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধায়ণে রয়েছেন। এ বিষয়ে সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা মহানগর শাখার সাঃ সম্পাদক এড. কুদরত-ই খুদা জানান, খুলনা বর্তমানে সন্ত্রাসীদের আতুর ঘরে পরিনত হয়েছে। পুলিশের নাকের ডগায় বসে নগরীতে প্রতিনিয়ত খুন, জখম, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চুরি-ছিনতায়ের ঘটনা ঘটেই চলছে। এ সকল কারণে জনমনে সর্বাক্ষণিক আতঙ্ক বিরাজ করে। তারমধ্যে আবার মসজিদে ঢুকে গুলির ঘটনা জনমনে আরো আতঙ্ক সৃষ্টি করবে। আমি মনে করি, পুলিশের আরো তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শণাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিৎ। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোরাদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। বিভিন্ন আলামত ও মটিভকে সামনে রেখে তদন্তের কার্যক্রম চলছে। দোষিদের গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়েই উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করি। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় উৎঘাটনে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে এই পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশাবাদী দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হবো।
