স্থানীয় সংবাদ

ভেড়ামারা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস

দালাল ও দুর্নীতিবাজদের অভয়ারণ্য

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি # কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের। সরকারি এ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটি বর্তমানে যেন দালাল ও দুর্নীতিবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। নিরীহ জনগণ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং হাজার হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি এর পর সরকারি ভলিউমে বা বালামে মূল দলিল তোলার কাজ করছে দলিল লেখক গনের আন্তীয় স্বজন। এর ফলে গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ১০০ টাকার স্ট্যাম্প ১২০-১৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। স্ট্যাম্প ভেন্ডারের লাইসেন্স নেই তারপরও স্ট্যাম্প বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।
হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখকদের সহযোগিতায় সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে হাজার হাজার টাকা অতিরিক্ত নিয়ে থাকেন। সরকারি নীতিমালায় হেবা দলিলে এবং কবলা দলিলের ফিস সরকার নির্ধারিত থাকলেও, ভেড়ামারা অফিসে নির্ধারিত ফিস বাদেও হেবা দলিলের জন্য ৩ থেকে ৪ গুন টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়াও সরকারিভাবে মৌজা মূল্যের বেশি মূল্যে ১-২ পার্সেন্ট, জমির শ্রেণি না থাকলে ১-২ পার্সেন্ট, বণ্টক নামা দলিলে ১ পার্সেন্টসহ শ্রেণি বাড়ি হলে ৫-১০ হাজার টাকা, এক দলিলে দুটি মৌজা হলে ১০-২০ হাজার টাকা, ওয়ারিশ সূত্রে ১০-২০ হাজার টাকা, জাতীয় পরিচয়পত্রে নামে সমস্যা থাকলে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এ ছাড়াও পে-অর্ডারের নামে চলছে আরেক দফা হরিলুট। এ যেন রাম রাজত্বে পরিণত হয়েছে সরকারি এ দপ্তরটি। বেপরোয়াভাবে নির্দ্বিধায় চাঁদাবাজি চলছে এমন অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, কোটি টাকা মূল্যের দলিলে দলিল লেখকদের সহযোগিতায় অতিরিক্ত টাকা নিয়ে রেজিস্ট্রির কাজ সম্পন্ন করেছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমার ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি দলিল রেজিস্ট্রি করতে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি সেবাগ্রহীতার একই অভিযোগ।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ১০টায় রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও সপ্তাহে ২ দিন সাব-রেজিস্ট্রার নিয়মিত দুপুর ১টার পর অফিসে যান এবং ২টার পর রেজিস্ট্রির কাজ শুরু করেন। অনেক সময় বিকেল ৪টাও বেজে যায় রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শুরু করতে। আবার ৫টার পর লেট ফি গুনতে হয় সেবাগ্রহীতাদের।
ভেড়ামারা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মনজুর এলাহী সবুজ বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে জমি রেজিস্টি করে থাকি।
ভেড়ামারা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরিফুল ইসলাম রুবেল বলেন, জমি রেজিস্ট্রি করার সময় আমরা আমাদের পারিশ্রমিক নিয়ে থাকি।
ভেড়ামারা সাব-রেজিস্ট্রার সঞ্জয় কুমার আশ্চর্য্য সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে অফিসে তাকে পাওয়া যায়নি। অফিসে না থাকায় বৃহস্পতিবার ও রবিবার তার মোবাইলে ৫ বার রিং দেওয়ার পরও তিনি রিসিভ করেনী। এই কারনে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। রিং দেওয়ার তথ্য মোবাইলে রেকডিং করা হয়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত বলেন, আমি এই উপজেলায় নতুর এসেছি। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ব্যাপারে খোজ খবর নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button