স্থানীয় সংবাদ

উপাচার্যের বক্তব্য অস্বীকার ও খুবি সাংবাদিককে প্রশাসনের তলবি চিঠি, খুবিসাসের নিন্দা

খবর বিজ্ঞপ্তি : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) প্রশাসন কর্তৃক দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী মো: মিরাজুল ইসলামকে চিঠি দিয়ে সংবাদের তথ্যসূত্র, লিখিত ব্যাখ্যা ও অডিও-ভিডিও রেকর্ড তলব এবং ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে শাস্তির হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (খুবিসাস)। গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখে ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে একজন সাংবাদিকের কাছে যেভাবে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রমাণাদি পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অন্যথায় ‘বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। কোনো প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে যদি কোনো পক্ষের আপত্তি থাকে, তবে তার প্রচলিত নিয়ম হলো সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক বরাবর প্রতিবাদ লিপি পাঠানো। একজন ক্যাম্পাস প্রতিনিধিকে সরাসরি চিঠি দিয়ে তথ্যসূত্র, অডিও বা ভিডিও রেকর্ড তলব করা এবং শাস্তির ভয় দেখানো সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূত এবং মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা। উল্লেখ্য, গত ০৯ জুন ২০২৬ দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে খুবিতে বৃক্ষরোপণ” শীর্ষক সংবাদে উপাচার্য মহোদয়ের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। এখানে প্রচুর দর্শক আসে। যেহেতু খুলনায় তেমন বিনোদনকেন্দ্র নেই। এবিষয়টি বিবেচনা করে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রশাসন এই সত্য ও স্পষ্ট বক্তব্যকে ‘বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের কাছে সংবাদে ব্যবহৃত উপাচার্যের বক্তব্যের সমস্ত রেকর্ড এবং প্রমাণাদি সুরক্ষিত রয়েছে। সাংবাদিকতার নৈতিক নিয়ম অনুযায়ী কোনো সাংবাদিক তাঁর সোর্স বা সংগৃহীত অডিও রেকর্ড এভাবে প্রশাসনের খেয়ালখুশিমতো দপ্তরে জমা দিতে বাধ্য নন। মিরাজুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হওয়ার সুবাদে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভয় দেখিয়ে তার সাংবাদিকতাকে দমন করার এই অপপ্রয়াস অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি ক্যাম্পাসে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথকে রুদ্ধ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধি চর্চা, পরমতসহিষ্ণুতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার সর্বোচ্চ স্থান। সেখানে প্রশাসনের এমন আচরণ ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতি তৈরি করছে। খুবিসাস অবিলম্বে মো: মিরাজুল ইসলামকে দেওয়া এই অবান্তর চিঠি ও তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মতো নিন্দনীয় ভাষা প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছে। অন্যথায়, ক্যাম্পাসে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সমুন্নত রাখতে এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কঠোর কর্মসূচী গ্রহণ করবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button