স্থানীয় সংবাদ

প্রায় ২লাখ গ্রাহকের বিনিয়োগের ৮শ’ কোটি টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে আতঙ্ক

# ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড যশোর প্রধান শাখা বিনিয়োগকারীদের ভিড় #

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ প্রতিদিন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী তাদের জমাকৃত টাকা নিশ্চিত পাওয়ার আশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড যশোর প্রধান শাখায় ভিড় করছে। সোমবার ১৫ জুন সকালে যশোর শহরের আরএনরোড এলাকায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড যশোর প্রধান শাখায় সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র পরিলক্ষিত হয়।
এই শাখায় কর্মরত ব্যাংকের কর্মকর্তা বজলুর রহমানের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান,যশোর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড যশোরের প্রধান শাখায় প্রায় ২লাখ গ্রাহক রয়েছে। যাদের প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা ডিপোজিট রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগকারী (ডিপোজিটর) ৩ হাজারের মতো। যাদের বিনিয়োগের পরিমান প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা। এছাড়া,এই ব্যাংকের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের গ্রাহকের কাছে। যার গ্রাহক সংখ্যা ৪০৮১ এর বেশী। এই প্রকল্পের গ্রাহকের কাছে ২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হলেও বিনিয়োগের অর্থ আদায়ের পরিমান ৯৮%।এছাড়া তিনি আরো বলেন,সাধারণত প্রতিদিন এই শাখায় ৩০ থেকে ৪০ জন গ্রাহক তাদের একাউন্ট ক্লোজড করলেও সোমবার ১৫ জুন এই শাখায় ৫৩ জন গ্রাহক ও ডিপোজিটর তাদের একাউন্ট ক্লোজড করেছে। তাছাড়া, চেকের মাধ্যমে ১৫শ’ গ্রাহক সেবা নিতে এসে ১৫ কোটি ৪লাখ টাকা উত্তোলন করলেও রেমিটেন্সসহ জমা দিয়েছে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা । এই শাখায় ম্যানেজার অপারেশন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বজলুর রহমানের সামনে অবস্থানকালে পরিলক্ষিত হয়েছে,এই শাখায় গ্রাহকেরা এই কর্মকর্তার কাছে তাদের বিনিয়োগের টাকা উত্তোলনের জন্য আকুতি জানাচ্ছে কারোর মেয়ের বিয়ে, কেউ জমি কিনবে ও কেউ চিকিৎসা পত্র সাথে নিয়ে এসে তাকে প্রদর্শন করছে। তিনি তার কাছে আসা গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বলেন,সোমবার ১৫ জুন সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা যাবে। ব্যাংকের কর্মকর্তার নির্দেশে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করার সাথে প্রতিদিন গ্রাহকেরা তাদের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। গ্রাহকের টাকা যতক্ষন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড যশোর শাখায় বিনিয়োগ রয়েছেন ততক্ষন পর্যন্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রদানে বদ্ধ পরিকর বলে তিনি আগত গ্রাহকদের নিশ্চিত করেন। ব্যাংকে অবস্থানকালে ব্যাংকের হ্যান্ড মাইকে গ্রাহকের উদ্দেশ্যে বলা হয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর সম্প্রতি যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। যে কারনে গ্রাহকের মধ্যে আতংকের দানা বেঁধেছে সেই আতংক আর থাকবেনা। এই ব্যাংকের চেয়ার‌্যমানের পদত্যাগ নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা কার্যকর হয়ে আবার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে যাবে। তাই গ্রাহকের উদ্দেশ্যে আরো বলা হয় আতংকিত হবার কোন কারন নেই। গ্রাহকেরা যে বিনিয়োগ করেছেন তারা তাদের টাকা অতি সহজে মুদারাসহ উত্তোলন করতে পারবেন। তারপরও সকালে ব্যাংক খোলার সাথে সাথে শতশত গ্রাহক তাদের ডিপোজিট ও বিনিয়োগ উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে ঢুকে সারি বদ্ধভাবে অবস্থান নিচ্ছেন। অনেক গ্রাহকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে এই ব্যাংক সম্প্রতি বন্ধ হওয়া ব্যাংকের পরিস্থিতিতে গেলে তখন তাদের বিনিয়োগের অর্থ কি হবে। তাই প্রতিনিয়ত উত্তোলনের জন্য ছুটছে এই শাখা। তাছাড়া, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড পরিচালনা পরিষদে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা দেখভালের দায়িত্ব সরকারের। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সরকারী ও বেসরকারি সকল ব্যাংক নিয়ন্ত্রন করে। সবকিছুর পরও এই ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের মনে আতংক কাটছেনা। তারা তাদের জমাকৃত অর্থ,ডিপোজিটরগন তাদের বিনিয়োগের অর্থ নিশ্চিত ফেরত পাওয়ার জন্য ব্যাংকে ভিড় করছে। খোঁজ নিয়ে আরো জানাগেছে,এই ব্যাংকের শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে যে বুথ রয়েছে সেই বুথে গ্রাহকেরা গত কয়েকদিন যাবত এটিএম কার্ডের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনে ব্যর্থ হওয়ায় তারা তাদের বিনিয়োগের অর্থ পেতে আরো অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে এই ব্যাংক কর্মকর্তা মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button