খুলনায় বাল্যবিবাহ ও মাদক সচেতনতায় অ্যাডভোকেসি সভা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় বেসরকারি সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘ-জেজেএস আয়োজিত অ্যাডভোকেসী এন্ড নেটওয়ার্কিং সভায় বক্তারা বলেছেন, বাল্যবিবাহ ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বক্তারা বলেন, এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, সামাজিক সচেতনতা ও মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মঙ্গলবার(১৬ জুন) সকালে খুলনা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। এতে সমাজসেবা, মহিলা বিষয়ক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, শিশু, অভিভাবক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিতান কুমার মন্ডল আরও বলেন, বাল্যবিবাহ ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল উপস্থাপন খুবই প্রয়োজন। বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি নির্যাতন ও অধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক দুর্বলতা, কর্মসংস্থানের সংকট, পারিবারিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক চাপের কারণে অনেক পরিবার কন্যাসন্তানকে অল্প বয়সে বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। তবে শুধু বাল্যবিবাহ বন্ধ করলেই হবে না, বিয়ের পর বা বিয়ে ভেঙে গেলে সেই মেয়েটির শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সামাজিক অবস্থানের বিষয়টিও পরবর্তীতে মনিটরিং করা উচিত।
জেজেএস’র সিনিয়র ডিরেক্টর প্রোগ্রাম এমএম চিশতির সভাপতিত্বে এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক এম হাসিবুল হাসানের সঞ্চালনায় এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস,এম, ছায়েদুর রহমান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রামার সাজিয়া আফরিন সিদ্দিকা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মোঃ আবুল তালেব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও খুলনার উপ-পরিদর্শক মোঃ আকবর আলী।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্যশিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক গাজী মনিরুজ্জামান, অভিভাবক কবিতা মন্ডল, শিশু দলনেতা সবুজ খান ও সুলতানা আফরিন অর্পা। সভায় মাদকাসক্তি প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও হতাশা অনেক মানুষকে মাদকের দিকে ঠেলে দেয়। তাই কেবল আইন প্রয়োগ বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, মানুষকে সাময়িক সহায়তা দেওয়ার চেয়ে তাদের স্বাবলম্বী ও সক্ষম করে তোলাই টেকসই পরিবর্তনের পথ। অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে যুক্ত ব্যক্তিরা শুধু নিজেরা সচেতন হচ্ছেন না, অন্যদেরও সহায়তা করার সক্ষমতা অর্জন করছেন। সভায় বক্তারা খুলনা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। এনজিও ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি ও শিশু অধিকারবিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান বক্তারা।



