বাগেরহাটে পল্লী বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং গ্রামীন জনজীবন অতিষ্ট : চাহিদা অনুযায়ি বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি গ্রাহকদের

# বিশ^কাপ বিনোদনে ভোগান্তি #
আজাদুল হক, বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ
বাগেরহাটে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং এ জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। বাগেরহাট শহর ও গ্রামীণ জনপদে প্রতিদিন ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে চলমান তাপদাহে বিদ্যুতের গ্রাহকরা না পারছে প্রচন্ড গরমের মধ্যে রাতে ঘুমাতে, না পারছে বর্তমানে চলা বিশ^কাপ ফুটবল আসরের সব খেলা দেখতে । ঘনঘন লোডশেডিং এর কারনে গ্রাহকরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য চাহিদা অনুযায়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বাগেরহাট শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর সিকদার বলেন, গত ২/৩ তিন লোডশেডিং অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যুৎ চলে যায়, আসে রাত ৯টার দিকে। এর দুই ঘন্টা পরে আবার রাত ১১ টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং এর কারনে রাতে না যাচ্ছে ঘুমানো না যাচ্ছে বিশ^াকাপের খেলা দেখা। বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা খান মাহমুদ আরিফুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, পল্লী বিদ্যুৎতের লোডশেডিং সব সময় বেশি। গরমের সময় তা বাড়ে অস্বাভাবিকহারে। গত কয়েকদিন ধরে দিনের মধ্যে অন্তত সাত থেকে আট ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে শিশু আর বৃদ্ধরা। প্রচন্ড গরমে এতো বেশি লোডশেডিং হচ্ছে এতে রাতে ঘুমানো যাচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়েনি যার কারনে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। সরকারের উচিত চাহিদা অনুযায়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের বারাকপুর গ্রামের গৌরাঙ্গ দাস বলেন, চার বছর পরে ফুটবল বিশ^কাপের আসর বসেছে। ঘনঘন লোডশেডিং এর কারনে রাতের খেলাগুলো আমরা ঠিকমত দেখতে পারছিনা। পছন্দের দলের খেলা দেখতে না পারলে মেজাজ ঠিক রাখা যায় না। মাসের বিল মাসেই আমরা পরিশোধ করছি অথচ গ্রাহকসেবা টিকমত পাচ্ছিনা। নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে দাবি জানান এই গ্রাহক। বাগেরহাট ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালীদুল ইসলাম খান বলেন, বাগেরহাট পৌরসভা এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা ২২ হাজার। এই গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৯ মেগাওয়াট। সেখানে আমরা পাচ্ছি ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। যার কারনে বাগেরহাটের চারটি ফিডারে প্রতি তিনঘন্টা পর পর একটি ফিডারে এক ঘন্টা করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে দিনে আট ঘন্টারমত লোডশেডিং হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, বাগেরহাটের ৯টি উপজেলা ও খুলনার রুপসা উপজেলা মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ। ৯৪টি ফিডারের এই ৬ লাখ গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১১৯ মেগাওয়াট। সেখানে আমরা সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ৭৮ মেগাওয়াট। ঘাটতি রয়েছে ৩৪ শতাংশ। চলতি সপ্তাহ থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে। এক ঘন্টা করে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। তা আবার কখনো কখনো বাড়াতে হচ্ছে। তবে বিশ^কাপের ম্যাচগুলো যখন চলছে তখন আমরা আধা ঘন্টার বেশি লোডশেডিং দিচ্ছি না।#


