আমরা দুর্ণীতিমুক্ত দিঘলিয়া দেখতে চাই

দিঘলিয়ায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসে আজিজুল বারী হেলাল
দিঘলিয়া প্রতিনিধি : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন-২০২৬) উপজেলা অডিটোরিয়াম, দিঘলিয়া, খুলনায় এ কংগ্রেসের আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, দিঘলিয়া। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায়। প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংক (ঞযব ডড়ৎষফ ইধহশ) ও আইএফএডি (ওঋঅউ)-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই খাতে পরিণত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন বিএনপি সেই দল যে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করেছেন। কৃষকের উন্নয়নের জন্য খাল খননে নিজে কোদাল হাতে তুলে নিয়েছেন। তারেক জিয়ার বিএনপি দুর্নীতি মুক্ত উন্নয়নের বিএনপি। তিনি স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন উপজেলায় কাবিখা, কাবিটা, এডিপিসহ নানা উন্নয়ন কাজ হয়। এসকল উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় নেতারা যদি দুর্ণীতিতে জড়িয়ে পড়েন তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি এ ব্যাপারে কঠোর তদারকি করার জন্য ইউএনও, ইঞ্জিনিয়ার ও পিআইওকে নির্দেশ দেন। প্রধান অতিথি ফিতা কেটে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। পরে তিনি অডিটরিয়মের মধ্যে আয়োজিত বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহবুবুল আলম, উপজেলা প্রকৌশলী আবু তারেক সাইফুল কামাল, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা খন্দকার জহিরুল ইসলাম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মিসেস নিসা,
খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, এনামুল হক সজল,
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনু, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আজগর আলী, রেজাউল ইসলাম রেজা, ইমতিয়াজ আলী সুজন, মাহমুদ হাসান, হাসিবুর রহমান সাদ্দাম, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম সাইফুর রহমান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মল্লিকসহ দিঘলিয়া উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার নুসরাত জাহান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কপিল দেব বসাক। উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার মন্ডল, মো:মনিরুল ইসলাম। এবং আশিক কুমার বসু, দেবাশীষ ধর সহ কৃষি অফিসের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি খুলনার উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহনশীল জাত ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশ গুপ্ত। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষক, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান অতিথি চান আমরা দুর্ণীতি মুক্ত দিঘলিয়া গড়তে। তিনি প্রধান অতিথি নির্দেশনা সবাইকে মেনে চলার আহবান জানান।
কংগ্রেসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষক-কৃষাণী, কৃষি উদ্যোক্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে কৃষকদের সফলতা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং পুষ্টিবান্ধব কৃষি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সফলতার গল্প তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এর ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


