খুলনা সিভিলসার্জন অফিসের ২১৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের এক বছরের বেতন বকেয়া

# শ্রমের ন্যায্য মূল্য পরিশোধের দাবি কর্মচারীদের #
শেখ ফেরদৌস রহমান: খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের আওতাধীন নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২১৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বেতন বকেয়া এক বছরের। গেল ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের বেতন কবে পাবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। এ দিকে রাত জেগে রাত্রিকালিন ডিউটি পালন করলেও বেতন নিয়ে ধেঁাঁয়াশা থাকায় ন্যায্য শ্রমের মূল্য পরিশোধের দাবি এসব কর্মচারীদের। এছাড়া জনশ্রুতি রয়েছে খুলনা সিভিল সার্জন অফিস কর্তৃক এবছর নতুন করে জনবল সরবরাহর জন্য দরপত্র আহবান করবে। তবে বেতন পরিশোধ না করে জনবল সরবরাহ করলে গেল এক বছরের বেতন পাওয়া নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ভুক্তভোগী কর্মচারী মো: রিপনের সাথে তিনি বলেন, গেল ২০২২ সাল হতে চাকুরী করছি। এ পর্যন্ত দুইবার বেতন পেয়েছি। এর আগে ছয় মাসের বেতন পাইনি। এখন চলতি মাসের জুনের পর মেয়াদ শেষ হবে ২৬-২৭ অর্থ বছরের। তবে এখনও বেতন আমরা পাবো কি পাবোনা এই নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে আমাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য চাই সংশ্লিষ্ট ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষর নিকট। পাশাপাশি পরবর্তীতে যদি দরপত্র আহবান করে বা নতুন ভাবে জনববল নিয়োগ হয়। আমরা যারা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রথম হতে কাজ করছি তাদেরকে যেন চাকুরীতে পুনঃবহাল রাখা হয়। এছাড়া খুলনা দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচ এন্ড এফ পিও ডাঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৩৩ জন আউট সোর্সিং কর্মচারী কর্মরত আছে। এদেরকে ২৪-২৫ অর্থ বছরের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। তবে, ২০২৬ -২৭ অর্থ বছরের বেতন বকেয়া আছে। মোট কথা এক বছরের বেতন বকেয়া আছে যেসসব আউটসোর্সিং কর্মচারীরা কাজ করছে শুধু মাত্র তাদের। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা হয় খুলনা শ্রম অধিদপ্তরের কর-কারখানা উপ মহা পরিদর্শক মোঃ শাহিনুর রহমানের সাথে তিনি বলেন, শ্রমিকরা কাজ করলে অবশ্যই তাদের শ্রমের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এটা শ্রমিকদের অধিকার । তবে যদি এমনটি হয় যে তারা কাজ করেছে তবে, তাদেরকে বেতন দেয়া হবে না। সে ক্ষেত্রে যদি কোন শ্রমিক আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন অথবা ১৬৩৫৭ নং নাম্বারে ফোন করে অভিযোগ করলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। বিষয়টি নিয়ে আউটসোর্সিং ঠিকাদার মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মোঃ ইকতিয়ার হোসেন বলেন, আমি সব সময়ে এসব গরীব অসহায় কর্মচারীদের পাশে আছি। আমার প্রত্যাশা তাদের বেতন যেন দেয়া হয়। আমার পক্ষ হতে সব ধরনের কাজ আমি করব। তবে আমারও দাবি এসব গরীব কর্মচারী যারা কাজ করেছে তাদের বেতন পরিশোধ করা হোক। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ২৫-২৬ অর্থ বছরের বেতন পরিশোধের বিষয়ে এখনও কোন আপডেট নেই। অফিসে এসে বিষয়টি দেখছি।



